নিজের বিয়ের রুখতে থানায় নাবালিকা! মুর্শিদাবাদের ঘটনায় চাঞ্চল্য
নিজের বিয়ে রুখতে সটান থানায় হাজির নাবালিকা স্কুলছাত্রী। ‘পুলিশকাকু’র কাছে স্পষ্ট করে সে জানায়, “আমার বাবা আমাকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে। আমি বিয়ে করতে চাই না, লেখাপড়া করতে চাই। আপনি ব্যবস্থা করুন।” ছাত্রীর কথাকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশ আশ্বস্ত করে, ”তুমি পড়বে। জীবনে নিজের পায়ে দাঁড়াবে।”
শুক্রবার মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানা এলাকায় বাড়ি ওই নাবালিকার । সে দশম শ্রেণির ছাত্রী। তার বিয়ে ঠিক করেছিল পরিবার। কিন্তু বিয়ে নয়, পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে ওই মেয়ে। তাই সটান আন্দি থেকে বাস ধরে হাজির সে হয় কান্দি বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে কান্দি থানার আইসি মৃণাল সিনহার কাছে গিয়ে নিজের অভিযোগ জানায়। আইসি ওই নাবালিকাকে সামনে বসিয়ে সমস্ত ঘটনা শোনেন। তিনি ছাত্রীকে কথা দেন, “কারও ক্ষমতা নেই তোমার বিয়ে দেওয়ার।” এরপরই নাবালিকার দেওয়া ঠিকানামতো মেয়ের বাড়িতে খবর পাঠানো হয়। পাশাপাশি মেয়ের মামার বাড়ির খড়গ্রাম থানার চন্দ্র সিংহবাটিতেও খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে নাবালিকার বাবা থানায় না এলেও মামা এসে হাজির হন এবং ভাগ্নিকে বুঝিয়ে পুলিশের কাছে মুচলেকা দিয়ে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যান। এদিন কান্দি থানার আইসি মৃণাল সিনহা ওই নাবালিকা স্কুল ছাত্রীর লেখাপড়ার সমস্ত দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং নাবালিকার মামাকে খাওয়াপরার দায়িত্বভার নেওয়ার জন্য আবেদন করলে তিনিও রাজি হয়ে যান। কান্দি থানার আইসি জানিয়েছেন, নাবালিকা স্কুলছাত্রী বড়ঞা থানার এলাকার বাসিন্দা। ওই ছাত্রীর মা একবছর আগে বাবার অত্যাচারে আত্মঘাতী হয়েছেন।
নাবালিকা স্কুলছাত্রী জানিয়েছে, “আমার বাবা কিছুদিন ধরেই আমার বিয়ে ঠিক করছিল। আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। আমি বিয়ে করব না। লেখাপড়া করতে চাই। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। কিন্তু আমার কোনও কথাই বাবা শুনতে চায়নি। পাশের গ্রামের ৩৫ বছরের এক যুবকের সঙ্গে আমার বিয়ে ঠিক করেছিল। শনিবার বিয়ের দিন ছিল। আমি বাবাকে সকাল থেকে আজও বুঝিয়েছি। কিন্তু বাবা কোনওমতেই রাজি হয়নি। এর জন্য আমি সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে পালিয়ে চলে আসি এবং কান্দি থানায় এসে সাহায্য চাই। পুলিশ-কাকু আমার পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন। আমি খুশি।”

