আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক অবনতির ক্ষেত্রে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা কোন ইস্যু নয়! মূল কারণ কি? কী বললেন রঘুরাম রাজন?
বাংলার জনরব ডেস্ক : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের উপর একের পর এক শুল্ক কেন চাপিয়ে যাচ্ছেন কেন এত ক্ষুব্ধ হয়েছেন? এ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন রাশিয়ার সঙ্গে তেল কেনার কারণে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে কিন্তু সেটাই কি সত্যি নাকি এর পেছনে অন্য কোন কারণ আছে! আর এই কারণটি বলে দিয়েছেন প্রাক্তন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গভর্নর প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ রঘুরাম রাজন। তাঁর মতে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর শুল্ক চাপাননি ট্রাম্প। বরং ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের দাবিতে দিল্লি যে অবস্থান গ্রহণ করে, তারই ফলস্বরূপ ‘শুল্ক শাস্তি’ চাপানো হয়েছে। (Raghuram Rajan)।
ইউনিভার্সিটি অফ জুরিখে UBS Centre for Economics in Society-র আলোচনাসভায় এই মন্তব্য করেন রাজন। তাঁর মন্তব্যের একটি ভিডিও সোশ্য়াল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর কথায়, “ব্যক্তিত্বই মূল সমস্যা, বিশেষ করে হোয়াইট হাউসের অন্দরের একজন ব্যক্তিত্ব। ট্রাম্প ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করলে, দিল্লির তরফে যে মন্তব্য করা হয়, তা যেভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল…পাকিস্তান কৌশলী অবস্থান নেয়। আরা বলে, ট্রাম্পের জন্যই (যুদ্ধবিরতি হয়েছে) ট্রাম্প।” গোড়া থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব দাবি করে আসছেন ট্রাম্প। ভারত ট্রাম্পকে সেই কৃতিত্ব না দেওয়াতেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি হয়েছে বলে মত রাজনের। (US Tariffs on India)।

রাজন জানিয়েছেন, গোটা দুনিয়ার সামনে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানায় পাকিস্তান, যুদ্ধবিরতিতে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে সিলমোহর দেয়। কিন্তু ভারত দাবি করে, আমেরিকার হস্তক্ষেপে যুদ্ধবিরতি হয়নি। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রত্যক্ষ আলোচনার মাধ্যমেই যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন হয়েছে। সেই থেকেই সমস্যার সূচনা বলে মত রাজনের। তাঁর বক্তব্য, “পাকিস্তান কৌশলগত অবস্থান নেয়। ট্রাম্পকেই কৃতিত্ব দেয় তারা। ভারত পাল্টা বিতর্কে গিয়ে দাবি করে, ট্রাম্পকে ছাড়াই যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন হয়েছে। মাঝামাঝি কিছু একটা হয়ত সত্য। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে ঠিক কী ঘটেছে, তা আমরা কেউই জানি না। আশা করা যায়, সব পক্ষই বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নেবে এবং যুক্তিসঙ্গত চুক্তিতে পৌঁছনো সম্ভব হবে।”

