রোডম্যাপ-এর সাহিত্য সম্মেলন ও নাট্যকার রাজু দাস সংখ্যা প্রকাশ
বিশেষ প্রতিনিধি : রোববার, ২৩ নভেম্বর হাওড়া শহরের অদূরে সাঁতরাগাছি আল-আমীন শামসুন একাডেমি সভাকক্ষে ‘রোডম্যাপ’ পত্রিকার বার্ষিক আয়োজন ‘রোডম্যাপ সাহিত্য সম্মেলন ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হলো। সাহিত্য, সংস্কৃতি আর ভালোবাসার এই মিলনমেলায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আটটি জেলা— যেমন পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ সহ কলকাতা সন্নিহিত দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি থেকে কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সাহিত্যপ্রেমী মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সকাল ১১টায় সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠের মাধ্যমে এই সাহিত্য সম্মেলনের সূচনা হয়।
এবারের সম্মেলনের মূল আকর্ষণ ছিল সদ্যপ্রয়াত নাট্যকার রাজু দাসকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যা ‘নাট্যকার রাজু দাস সংখ্যা’-র আনুষ্ঠানিক প্রকাশ। রাজু দাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাহিত্যিক বন্ধুরা এই সংখ্যায় তাঁর জীবন ও নাট্যচর্চা নিয়ে কলাম, কবিতা ও গল্প লিখেছেন।

স্মৃতিচারণের এই প্রাণবন্ত মঞ্চে নাট্যকর্মী ও লেখক পরিমল বিশ্বাস এবং গোবিন্দ সরকার রাজু দাসের জীবন ও কর্মের নানা দিক তুলে ধরেন। শুরুতেই প্রধান অতিথি নির্মলেন্দু বিশ্বাস মহাশয় রাজু দাস স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন এবং বিকেলে কবি সমীরণ বিশ্বাসের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণায় এক স্নিগ্ধ আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পূর্ণিমা কর তাঁর স্মরণে ‘রাজু দাস’ শীর্ষক কথিকা পাঠ করেন। অসুস্থতার কারণে নাট্যকারের স্ত্রী, বিশিষ্ট লেখিকা ও নাট্যকর্মী নমিতা দাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারলেও তার অডিও ভাষণ সভায় শোনানো হয়।

সম্মেলনের মূল আলোচনা পর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ‘সাহিত্যকে সমাজ বদলের হাতিয়ার হিসেবে দেখা’। অধ্যাপক ড. রেজমান মল্লিক আজকের সাহিত্যের পথরেখা নিয়ে জরুরি কিছু কথা বলেন। সবচেয়ে সময়োপযোগী আলোচনাটি ছিল লেখক সমীরণ বিশ্বাসের, যিনি ‘সংবিধান, ভারতীয় সংবিধান ও আমরা’ শীর্ষক বক্তব্যে সংবিধানের আদর্শকে সাহিত্য-সংস্কৃতির ভিত্তি হিসেবে মেনে চলার ওপর জোর দেন। গল্পকার স্বামিমা আসমান এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন জিয়নকঠি সম্পাদক নাজিবুল মন্ডল, অভিজিৎ মন্ডল ও ঔপন্যাসিক পাহাড়ি খান।
এই অনুষ্ঠানে ছয়জন সাহিত্য সাধককে সাহিত্য স্মারক দিয়ে সম্মানিত করা হয়। সম্মানিতরা হলেন: নাট্যকর্মী ও লেখিকা নমিতা দাস, কথাসাহিত্যিক ইসমাইল দরবেশ, অধ্যাপক ড. রেজমান মল্লিক, কবি আবদুস সালাম, গল্পকার স্বামিমা আসমান, এবং লেখক নির্মলেন্দু বিশ্বাস। এছাড়াও সাহিত্যে প্রণোদনার জন্য আল-আমীন শামসুন একাডেমি স্কুল কর্তৃপক্ষকেও সাহিত্য স্মারক সম্মাননা প্রদান করা হয়।
কবিতা পাঠে অংশ নেন কবি আরেফা গোলদার, মলয় দাস, শমিম হাসান, সনাতন পাত্র, নিত্যানন্দ পাত্র, আব্দুর রকিব, বেনোজির নাজ, চায়না খুন, আয়ুব শাহ, শেখ কামারুল ইসলাম, রুবিনা হক, কবি সালেহা খাতুন, শেখ রমজান আলি, আসাদ আলী, আনোয়ার হোসেন, প্রশান্ত মন্ডল সহ বহু কবি-সাহিত্যিক অংশ নিয়ে অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করেন। বিকেলে ‘রোডম্যাপ’ পত্রিকার সম্পাদক এম এম আব্দুর রহমানের বক্তব্যের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা হয়। তিনি বর্ণবিদ্বেষমুক্ত ও সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত সমাজ গড়তে সাহিত্য সৃষ্টির জন্য সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

