মোস্তাক হোসেন ট্যালেন্ট সার্চ ২০২৫ পরীক্ষার স্কলারশিপ প্রদান
বিশেষ প্রতিনিধি : বিশিষ্ট শিল্পপতি ও শিক্ষাব্রতী মোস্তাক হোসেন নামাঙ্কিত রাজ্যব্যাপী ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষার দক্ষিণবঙ্গের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে রবিবার আয়োজন করা হয়েছিল স্কলারশিপ ও বিশেষ পুরস্কার প্রদানের অনুষ্ঠান। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক সার্কাস ক্যাম্পাস অডিটোরিয়ামে এদিনের এই অনুষ্ঠানে দক্ষিণবঙ্গের চব্বিশটি স্কুল থেকে সফল ছাত্র-ছাত্রীরা উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে হাজির হয়েছিল তাদের অভিভাবকদের নিয়ে। তাদের জন্য সুষ্ঠু আয়োজনের ব্যবস্থাপনা করেছিল চেকমেট কেরিয়ার-এর কর্ণধার কাজী মোহাম্মদ হাবিব। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-অভিভাবক প্রত্যেকে চেকমেট-এর এই নিখুঁত ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত তৃপ্ত।
শিল্পপতি মোস্তাক হোসেনের নামে কেন এই ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষা, বলতে গিয়ে এই পরীক্ষার প্রধান উদ্যোক্তা উত্তরবঙ্গের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেস এডুকেশনাল হাব-এর সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার প্রসারে মোস্তাক হোসেন হলেন আমাদের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এক শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। তাঁর সুদূরপ্রসারী চিন্তা ও অকাতরে দান স্বাধীনোত্তর বাংলায় শিক্ষা-সংস্কৃতির অঙ্গনে এক বিশেষ পরিবর্তন সূচিত করেছে। তাঁর সাধ বাংলাকে শিক্ষায় সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তোলা যাতে তারা স্বনির্ভরশীল হয়ে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে। মোস্তাক হোসেন সাহেবের সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই এই আয়োজন, এক্কেবারে ছোটোবেলা থেকে গড়ে তোলা যাতে বড় হয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে।

এদিন অনুষ্ঠানের মুখ্য অতিথি বিশিষ্ট প্রশাসক ও জিডি স্টাডি সার্কেলের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত আইএএস সেখ নুরুল হক শিশুর মেধার বিকাশে এই ধরনের পরীক্ষার জুড়ি মেলা ভার। ছোট থেকে সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সার্বিক বিকাশের লক্ষ্যে বড় টার্গেট বেঁধে দেওয়াই ছিল এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্যে দু পর্বের এই পরীক্ষার সম্পূর্ণ আয়োজন ছিল প্রায় একশ শতাংশ ত্রুটিমুক্ত। দুই পর্বের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সহ দুটি পুস্তক ছিল নির্ভুল, এর দায়িত্বে থাকা অনুসন্ধান সোসাইটির সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের তিনি অভিবাদন জানান। তিনি আরো বলেন অনুসন্ধান সোসাইটির নতুন চিন্তা ভাবনায় উপকৃত হচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা, অভিভাবকেরা এবং শিক্ষকরাও। জিডি স্টাডি সার্কেলের অন্তর্ভুক্ত মিশনের শিক্ষকদের জন্য ওরিয়েন্টেশনের দায়িত্বভার থাকে অনুসন্ধানের ওপর। তাঁদের সকল বয়সের প্রশিক্ষকদের জ্ঞান, আন্তরিকতা ও কর্মতৎপরতা মিশন কর্তৃপক্ষগুলির ভূয়সি প্রশংসা কুড়োতে সক্ষম হয়েছে। এরপর তিনি বলেন মোস্তাক হোসেন প্রসঙ্গে। এত বড় মাপের শিল্পপতি হয়েও সাদাসিধে, বিনয়ী, মাটির কাছাকাছি মানুষ সচরাচার খুব একটা দেখতে পাওয়া যায় না। প্রচারবিমুখ মানুষটির কতরকম দানে ধন্য হয়েছে কতদিকের মানুষজন, তা তাঁর সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন, তাঁরাই কেবল কিছুটা জানেন।
২০২৬ সালের ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষার তারিখ, ফলাফল ঘোষণা এবং স্কলারশিপ ও বিশেষ পুরস্কার প্রদানেরও তারিখ এদিন ঘোষণা হয়। সঙ্গে সঙ্গে ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলা হয়, শিক্ষার্থীরা যাতে ছোট থেকে মেধার অন্বেষণ, সুস্থ প্রতিযোগিতা ও আধুনিকতার সংস্পর্শে আসতে পারে, সেই সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছিল ট্যালেন্ট সার্চের এই পরীক্ষা। যেকোনো বোর্ডের ক্লাস থ্রি থেকে টেন পড়ুয়াদের জন্য ছিল এই পরীক্ষা। বাংলা এবং ইংরেজি উভয় মাধ্যমে এই পরীক্ষা আয়োজন করা হয়েছিল দুটি পর্বে। প্রথম পর্বে অংশ নেয় ৮০০০ ছাত্র-ছাত্রী। পরীক্ষায় অংশ নেয় তারা ৬৫ টি কেন্দ্র থেকে। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত ১৪৪৮ ছাত্র-ছাত্রী আটটি কেন্দ্র থেকে পরীক্ষায় বসে।
এই পরীক্ষায় সফল হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর উত্তর দিনাজপুরে আয়োজন করা হয়েছিল স্কলারশিপ বিতরণ ও সার। যেখানে ২৪৬ জন ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকদের নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড অমরেন্দ্র মহাপাত্র, মেচবাহার শেখ, মনোজ রায়, গৌরাঙ্গ সরখেল সহ বহু বিশিষ্টজনেরা।
কলকাতা ও আশপাশের এলাকার কেন্দ্রগুলি থেকে এই ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষায় সফল হওয়া ৬৭ জন ছাত্র-ছাত্রীদের শুভেচ্ছা প্রদান করে হাতে ফুলের গাছ সহ স্কলারশিপ (নগদ এককালীন অর্থ) ও সার্টিফিকেট তুলে দেন বিশিষ্ট অতিথিবর্গ। এদিনের উল্লেখযোগ্য অতিথিরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস লিয়াকত আলী, অবসরপ্রাপ্ত ডব্লিউ বিসিএস আরফান আলী বিশ্বাস, বিশিষ্ট প্রশাসক প্রদীপ মজুমদার, সাবির আহমেদ, মনিরা বেগম, জেবুন্নেসা বেগম, কাজী মহসিন আজিম, আশহাদুল ইসলাম, গৌরাঙ্গ সরখেল, তামিম ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বছরের প্রকৌশলী বিভাগের কৃতী ছাত্র সাহিল হালদার।

