ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং ত্রাণ ও মানবাধিকার কর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে কলকাতায় মিছিল
বিশেষ প্রতিনিধি : ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং ত্রাণ ও মানবাধিকার কর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে আজ সোমবার কলকাতার ধর্মতলায় একটি প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন,সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক মাওলানা কামরুজ্জামান, অল ইন্ডিয়া তৌহিদি জনতার কর্ণধার মাওলানা হাসিবুর রহমান, বিশিষ্ট সমাজকর্মী সারোয়ার হাসান, জামিয়েতুল আইম্মা অল উলামার সম্পাদক হাফেজ সিদ্দিকুল্লা শেখ, ঐকতান মিল্লি ইত্তেহাদ মজলিসের মাওলানা আমিনুল আম্বিয়া, মুফতি রুহুল আমিন, সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সভাপতি আনোয়ার কাসেমী ভাঙড় ইমাম-মোয়াজ্জিন অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মাওলানা মিজানুর রহমান প্রমূখ।
মাওলানা কামরুজ্জামান বলেন-গাজায় চলমান গণহত্যা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে! নিরীহ মানুষদের মুখে অন্ন পৌঁছানো, শিশুদের চিকিৎসা অত্যন্ত প্রয়োজন। ইসরাইল সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। দু’বছর ধরে গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।এই গণহত্যার জন্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে আন্তর্জাতিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। তিনি আরো বলেন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ত্রাণ ও ওষুধসহ আন্তর্জাতিক জাহাজবহর ফ্লোটিলা আটকানো হয়েছে। শত শত মানবাধিকারকর্মী গ্রেফতার হয়েছে। এটি কেবল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নয়, সমগ্র মানবতার বিরুদ্ধে একটি নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং নিন্দনীয় অপরাধ। পৃথিবী যেন দেখুক, আমরা মানবতার পাশে আছি। আমরা ধ্বনিমূলকভাবে বলছি — ভারত সরকারকে অবিলম্বে দৃঢ় ও কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে। গাজাবাসীর কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে এবং যারা আটক আছে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। আমরা ন্যায়ের জন্য, মানবতার জন্য এবং অসহায়দের রক্ষার জন্য লড়ব। এটা আমাদের ভারত সরকারের কাছে আবেদন। এই লড়াই শুধুমাত্র ফিলিস্তিনের লড়াই নয়, একই সঙ্গে মানবতা বাঁচানোর লড়াই। ওদেরকে বাঁচতে দাও। ওদের মুক্ত কর। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা দাও।

অল ইন্ডিয়া তৌহিদি জনতার কর্ণধার মাওলানা হাসিবুর রহমান বলেন, মানবাধিকার রক্ষার জন্য আমরা আওয়াজ তুলব। মোদি সরকারকে অনুরোধ করব — সুযোগ করে দিন, আমরা ভারত থেকে চল্লিশ কোটি মুসলমান মিলে ত্রাণ পাঠাবো গাজাবাসীর জন্য। ভারতের কূটনৈতিক ভূমিকা সঠিকমতো পালন করলে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, ভবিষ্যতে সকল সংগঠনকে একত্রিত করে বৃহৎ আকারের প্রতিবাদ বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করা হবে।
মিছিলে বক্তারা একযোগে দাবি করেন, গাজায় চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘন, খাদ্য ও চিকিৎসার জটিলতা, এবং শিশু ও নারীসহ বেসামরিক নাগরিকদের উপর নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। এই পরিস্থিতি কেবল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নয়, সমগ্র মানবতার বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

