এক রাতের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দার্জিলিং মৃত ১৭, সোমবার যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী
বাংলার জনরব ডেস্ক : প্রবল বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গ ধসের কবলে। এক রাতের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পুরো দার্জিলিং। ধসের কবলে একের পর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এ পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দার্জিলিঙের এমন ভয়াবহ রূপ শেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৯৮ সালে। তার পর ২৭ বছর বাদে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল।
শনিবার রাতে বালাসন নদীর উপর দুধিয়ার লোহার সেতুর একাংশ বৃষ্টিতে ভেঙে যায়। এর ফলে শিলিগুড়ি এবং মিরিকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সৌরেনির কাছে দারাগাঁওয়ে গভীর রাতে ধস নামে। একটি বাড়ি ধসে যায়। আপার দুধিয়া বা ডাম্ফেডার এলাকায় চার থেকে পাঁচটি বাড়ি ধসে গিয়ে জলের তলায় চলে গিয়েছে। বেশ কিছু হোমস্টে ছিল দার্জিলিঙের ওই অংশে। সেগুলোও ভয়ঙ্কর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুধিয়া নদীর একপাশে রয়েছে বিএসএফের ক্যাম্প। সেটাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রবিবার সকালে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মিরিকে ৯ জন, সুকিয়াপোখরিতে ৭ এবং বিজনবাড়ি এলাকায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে।

১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস নেমেছিল শনিবার রাতে। দুপুরে অনেকাংশে তা মেরামত করা গিয়েছে। দার্জিলিঙে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পাঙ্খাবাড়ি রোডটি চড়াই-উতরাইয়ের জন্য পর্যটকেরা ব্যবহার করেন না। তবে এখন ওই রাস্তা দিয়েই পর্যটকদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই মুহূর্তে ঠিক কত জন পর্যটক পাহাড়ে আছেন, সরকারি ভাবে হিসাব মেলেনি। তবে এঁরা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটকে পড়েছেন।
পুজোর সময় প্রচুর পর্যটক পাহাড়ে এসেছিলেন। পরিস্থিতি দেখে অনেকেই রবিবার বাড়ির রাস্তা ধরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের সিংহভাগই আটকে রয়েছেন। বেশির ভাগ উড়ান বাতিল হয়েছে। অনেকে টিকিটই পাননি। পর্যটকদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে দুর্গম পথ এবং খারাপ আবহাওয়ার জন্য সবটাই হচ্ছে ধীর গতিতে। জিটিএ থেকে টাইগার হিল, রক গার্ডেনের মতো এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এক দিনের জন্য। ত্রাণশিবির তৈরি হচ্ছে দার্জিলিঙের নানা জায়গায়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
কালিম্পঙে একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে। তবে দার্জিলিঙের তুলনায় এখানে ক্ষতির পরিমাণ কম। পরিস্থিতি দেখে গাড়ি চলাচলে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। সিকিম এবং বাংলা সীমান্ত এলাকাতেও ধস নেমেছিল। সেগুলো সারাইয়ের কাজ চলছে।
জিটিএ প্রধান তথা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার শীর্ষ নেতা অনীত থাপার দাবি, কেবল মিরিকেই ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন তিনি। অন্যান্য জায়গা থেকেও নানা দুর্ঘটনার খবর পাচ্ছেন। এমতাবস্থায় ত্রাণের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘মিরিকের এসডিও, বিডিও থেকে (দার্জিলিঙের) সাংসদ, পুরসভার চেয়ারম্যান, ইঞ্জিনিয়ার— সকলেই কাজে নেমেছেন। সকলে সতর্ক থাকুন।’’ দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা জানান, দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাণহানি থেকে সম্পত্তির ক্ষতি, সরকারি পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘আমি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আমরা আমাদের বিজেপি কর্মীদের মানুষকে সাহায্য ও সহায়তার জন্য একত্রিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’’
অন্য দিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন সোমবারই তিনি উত্তরবঙ্গে যাবেন। শিলিগুড়ি থেকে তিনি গোটা বিষয়ের দেখভাল করবেন।

