মোস্তাক হোসেন ট্যালেন্ট সার্চ
বিশেষ প্রতিবেদন : মোস্তাক হোসেন ট্যালেন্ট সার্চ নিয়ে উত্তরবঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। আগামী রবিবার ২৪ আগস্ট এই ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষার প্রাথমিক পর্ব। এই পর্বে অংশ নেবে প্রায় ৮০০০ ছাত্র-ছাত্রী। ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষাটির আয়োজক সংস্থা বেস এডুকেশনাল হাব-এর কর্ণধার খাদেমুল ইসলাম জানালেন, গত বছর আমরা শুরু করেছিলাম ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষা, এবার উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সম্প্রসারিত হয়েছে দক্ষিণবঙ্গেরও কিছু এলাকা। তবে আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় কথা, এ বছর থেকে শিক্ষাদরদী ও বিশিষ্ট শিল্পপতি মোস্তাক হোসেন-এর নামে এই ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষাটির আয়োজন করতে পারা। রাজ্যের শিক্ষা-মানচিত্রে বিশেষ করে সংখ্যালঘু পিছিয়ে পড়া মুসলমান ও আদিবাসী কিছুটা হলেও ঠাঁই করে নিতে পেরেছে শিক্ষা বিস্তার ও শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনে তাঁর অকৃপণ দানে। মোস্তাক হোসেনের এই দান স্মরণে রাখতে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এই ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষার আয়োজন।
মোস্তাক হোসেন ট্যালেন্ট সার্চের পরীক্ষা নিয়ামক গৌরাঙ্গ সরখেল সার্বিক ব্যবস্থাপনায় খুবই খুশি। তিনি বলেন রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের উন্নতিকল্পে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। দৈনন্দিন লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেধার উন্মেষ ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে উঠবে এর মাধ্যমে, সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার ধরন-ধারণ সম্পর্কেও আঁচ করতে পারবে এই পরীক্ষায় যারা অংশগ্রহণ করবে। প্রথম পর্বের পরীক্ষায় প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে প্রথম তিনজন করে সুযোগ পাবে চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার। চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা হবে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর। তার ভিত্তিতে স্কলারশিপ, সার্টিফিকেট সহ এককালীন বৃত্তি প্রদান করা হবে। এছাড়াও বাছাই করা ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে ‘ইগনাইট দা ইয়ং মাইন্ডস’ নামের একদিনের একটি দক্ষতা নির্ণয়ের কর্মসূচি কথাও ভাবা হয়েছে।

ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষার অন্যতম কর্মকর্তা রাসনাউল আলম বলেন, আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সর্বস্তরের মানুষের কাছে মোস্তাক হোসেন ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষার এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে। সরকারি, বেসরকারি সহ মিশন পরিচালিত বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে অংশগ্রহণ করতে পারে। পরীক্ষাটি আয়োজন করা হয়েছে ক্লাস থ্রি থেকে টেন পর্যন্ত সকল বোর্ডের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য, বাংলা এবং ইংরেজি উভয় মাধ্যমে। প্রকাশ করা হয়েছে দুটি অনুশীলন পুস্তক। বাংলা মাধ্যমে পুস্তকটি প্রকাশিত হয়েছিল কলকাতার বিধান নগর গভর্মেন্ট কলেজে ড. অমরেন্দ্র মহাপাত্র, ড.পার্থ কর্মকার, মেচবাহার সেখ, দিব্য গোপাল ঘটক প্রমূখ গুণীজনদের উপস্থিতিতে। ইংরেজি মাধ্যমে অনুশীলন পুস্তকটি গত ৯ আগস্ট দক্ষিণ দিনাজপুরের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান বেস আন-নূর মডেল স্কুলে আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করেন পশ্চিমবঙ্গ মাইনোরিটি কমিশন-এর চেয়ারম্যান আহমেদ হাসান সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
শিক্ষা জগতের বিদ্বজনেরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এই উদ্যোগকে। বিশিষ্ট শিক্ষা প্রশাসক ও ইউনিসেফ কলকাতার অবসরপ্রাপ্ত কনসালট্যান্ট মেচবাহার সেখ এক বিবৃতিতে বেস এডুকেশনাল হাব-এর এই উদ্যোগের সাফল্য কামনা করেন এবং তুলে ধরেন শিল্পপতি মোস্তাক হোসেনের একাধিক সমাজ কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা। তাঁর নামাঙ্কিত ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষার এই আয়োজনকে তিনি অত্যন্ত সময়োচিত একটি কর্মসূচি বলে আখ্যায়িত করেন। বৃহৎ এই কর্মকান্ডে জিডি স্টাডি সার্কেল, অনুসন্ধান সোসাইটি, চেকমেট কেরিয়ার সহ বিভিন্ন অঙ্গনে যাঁরা যেভাবে সহযোগিতা করছেন, তাঁদের প্রত্যেককে তিনি ঐতিহাসিক এই কর্মকান্ডে শামিল হওয়ার জন্য শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

