দেশ 

একই বাড়ির সদস্য ২৩০ জন! প্রায় ৩ লক্ষ ভোটারের বাড়ির নম্বর ০, ০০, ০০০ নজির বিহীন ভোটার তালিকা সংশোধন বিহারে! কমিশন নীরব কেন?

শেয়ার করুন

একই বাড়ির সদস্য ২৩০ জন। প্রায় ৩ লক্ষ ভোটারের বাড়ির নম্বর ০, ০০, ০০০। বিহারে নিবিড় সংশোধনের পর প্রকাশিত ভোটার তালিকাতেও বড়সড় গলদ। নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে, জামুই জেলার চৌডিহা পঞ্চায়েতের এক বুথের একটি ছোট্ট বাড়িতেই ২৩০ জন ভোটারের বাস!

ওই এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, তাঁরা এক বাড়িতে থাকেন না। প্রত্যেকের আলাদা আলাদা বাড়ি আছে। ঠিকানা আলাদা। বাড়ির নম্বরও আলাদা। তা সত্ত্বেও এই ধরনের ভুল হয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের জন্য যে বুথ লেভেল অফিসারের আসার কথা ছিল, তিনি সরেজমিনে তদন্ত করেননি। ঘরে বসেই কাজ সেরেছেন। ওই এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এমন বহু ভোটারের নাম তালিকায় উঠে পড়েছে যারা হয়তো অনেকদিন আগেই মারা গিয়েছেন। আসলে বুথ লেভেল অফিসারদের অকর্মণ্যতার জেরে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আসল উদ্দেশ্যই পূরণ হচ্ছে না। যদিও স্থানীয় বিএলও’র দাবি, “ওই ভুলগুলি হয়েছে প্রযুক্তিগত কারণে। আমি আগেই বিডিও-কে বিষয়টি জানিয়েছি।”

Advertisement

হিসাবে বলছে, বিহারের SIR-এর পর যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, সেই তালিকায় ২ লক্ষ ৯২ হাজারের বেশি ভোটারের বাড়ির নম্বর দেখাচ্ছে ০, ০০ এবং ০০০। মৃত অথচ ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে এমন অভিযোগ উঠছে ভূরি ভূরি। বিরোধীদের অভিযোগ, নিবিড় সংশোধনের পর সংশোধিত যে তালিকা নির্বাচন কমিশন তৈরি করেছে, সেটাও ত্রুটিপূর্ণ। তাড়াহুড়োর চক্করে বুথ লেভেল অফিসাররা বহু নিয়ম বহির্ভূত কাজ করছেন। ফলে সংশোধিত ভোটার তালিকাও ত্রুটিপূর্ণ। আরজেডির অভিযোগ, বুথ লেভেল অফিসাররা টার্গেট পূরণের জন্য ভোটারদের সঙ্গে কথা না বলেই ফর্ম পূরণ করে দিয়েছেন। অনেক ভোটারের নামে ফর্ম পূরণ হয়েছে, অথচ তিনি জানেন না। বহু মৃত ভোটারের নামেও এভাবেই ফর্ম ফিল আপ হয়েছে। ফলে ভুয়ো ভোটার ধরার যে দাবি কমিশন করছে, সেটাও ভ্রান্ত।

একটি ছোট্ট এক কামরার বাড়িতে ৮০ জন ভোটার! একই বাড়ির সদস্য ৪৩ জন। তাঁদের পদবি আবার আলাদা আলাদা। কর্নাটকের মহাদেবপুরা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় এই ত্রুটিগুলি তুলে ধরেছেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। নির্বাচন কমিশনের সূত্র দাবি করছে, এই ধরনের কোনও ত্রুটি যাতে ভোটার তালিকায় না থাকে সেটা নিশ্চিত করার জন্যই এই নিবিড় সংশোধন। কিন্তু বাস্তব বলছে, নিবিড় সংশোধনের পর যে খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, সেটাও ত্রুটিপূর্ণ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ