দেশ 

মাওবাদীদের আইইডি বিস্ফোরণে উড়ে গেল রাংরা-করমপাড়া রুটের রেললাইন

শেয়ার করুন

মাওবাদীদের আইইডি বিস্ফোরণে উড়ে গেল চক্রধরপুর ডিভিশনের রাংরা-করমপাড়া রুটের রেললাইন। এই হামলার সময় ওই রুটে কোনও ট্রেন না থাকায় বিরাট দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে। যদিও প্রশ্ন উঠছে মাওবাদীরা যদি ট্রেন চলাকালীন এই বিস্ফোরণ ঘটাতো, তাহলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হত। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে আরপিএফ, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড পুলিশ।

জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল ৬টা ৪০ নাগাদ এক বিরাট বিস্ফোরণ ঘটে চক্রধরপুর ডিভিশনের ওই রেল লাইনে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ভেঙে যায় লাইনের স্লিপার। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে নিরাপত্তা বাহিনী। বিস্ফোরণের পর লাইনের উপর থেকে মিলেছে মাওবাদীদের পতাকা ও ব্যানার। ঘটনার সময় ওই রুটে কোনও ট্রেন না থাকায় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে। গোটা অঞ্চল ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করেছে ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড পুলিশের পাশাপাশি সিআরপিএফ ও ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার্স টিম। এছাড়াও ওই রুটে কোথাও বিস্ফোরক রাখা হয়েছে কিনা খতিয়ে দেখতে মোতায়েন করা হয়েছে বম্ব ডিটেকশন টিম।

কয়েকমাস আগে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয় মাওবাদীদের শীর্ষ নেতা বাসবরাজ ওরফে নাম্বালা কেশবরাওয়ের। সেই মৃত্যুর প্রতিবাদে ২৮ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত ‘শহিদ সপ্তাহ’ পালন করছে মাওবাদীরা। এই শহিদ সপ্তাহের শেষ দিন অর্থাৎ ৩ আগস্ট বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে। ঝড়খণ্ড, বিহার, উত্তর ছত্তিশগড়, বাংলা ও অসমে এই বনধ পালন করার ডাক দেওয়া হয়। মাওবাদীদের শহিদ সপ্তাহ উপলক্ষে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল আগেই। এবার এই হামলায় নড়েচড়ে বসেছে নিরাপত্তাবাহিনী।

এদিকে এই হামলার সঙ্গে জ্ঞানেশ্বরী কাণ্ডের মিল দেখতে পাচ্ছেন অনেকেই। ২০১১ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে একই ছকে হামলা চালিয়েছিল মাওবাদীরা। এই দুর্ঘটনায় ১৪১ জন যাত্রী প্রাণ হারান। একইভাবে রেললাইনে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল মাওবাদীরা ঘটনার সময় সেখান দিয়ে যাচ্ছিল জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস। বিস্ফোরণের জেরে লাইনচ্যুত হয় ট্রেনটি মৃত্যু হয় বহু মানুষের।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ