ধর্মীয় পক্ষপাতিত্ব দিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই সম্ভব নয় : ইলিয়াস মুহাম্মদ থুম্বে
বিশেষ প্রতিনিধি : রাজ্যসভায় ‘অপারেশন মহাদেব’ এবং ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যখন বলেন, “হিন্দু কখনো সন্ত্রাসবাদী হতে পারে না”—এই বক্তব্য শুধু ঐতিহাসিকভাবে ভুলই নয়, ভারতের মতো একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রে এই মন্তব্য অত্যন্ত বিভাজনমূলক ও বিপজ্জনক।
আরও উদ্বেগের বিষয় হল, সরকারের তরফ থেকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামকরণ ক্রমাগত হিন্দু ধর্মীয় প্রতীকের উপর ভিত্তি করে করা হচ্ছে। একটি এমন দেশের ক্ষেত্রে, যার সংবিধান ধর্মীয় সমতার নিশ্চয়তা দেয়, সেই দেশে “মহাদেব” ও “সিন্দুর” নামে অভিযান চালানো দেশের অ-হিন্দু নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক বার্তা দেয় এবং রাষ্ট্রের পরিচয়কে একচেটিয়া করে তোলে। একটি ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রে এই ধরনের প্রতীক ব্যবহার অনুচিত।
অমিত শাহের এই অস্বীকার প্রকৃত ইতিহাসের পরিপন্থী। ২০১৭ সালে আজমের দরগাহ বিস্ফোরণ মামলায় দেবেন্দ্র গুপ্ত ও ভবেশ প্যাটেল দোষী সাব্যস্ত হন। এছাড়াও ২০০৬ ও ২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ, ২০০৭ সালের সমঝোতা এক্সপ্রেস বোমা হামলা এবং মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণের পেছনেও হিন্দু চরমপন্থীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে। স্বামী অসীমানন্দ ও সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুরের মতো ব্যক্তিরা—যাঁরা অভিনব ভারত-এর মতো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত—এইসব হামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। এমনকি, ২০২২ সালে আরএসএস সদস্য যশবন্ত শিণ্ডে একটি হলফনামায় বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ শিবির সংগঠনের অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রীয় স্তরে এক গুরুতর প্রশ্নচিহ্নও উত্থাপন করেছেন।
এই বাস্তবতাগুলিকে অস্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক গল্প প্রচার করছেন, যা দেশের নিরাপত্তাকে দুর্বল করে এবং জনগণের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে।
আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, যেন তারা ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত রূপের সন্ত্রাসকে স্বীকার করে এবং আমাদের সংবিধানে বর্ণিত ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে। ভারতের প্রকৃত শক্তি তার বহুত্ববাদে নিহিত। কোনো একক ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা গণতান্ত্রিক ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সামাজিক সম্প্রীতির ওপর আঘাত হানে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই হওয়া উচিত সত্য, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে।

