কলকাতা 

প্রয়াত শ্রেণীবৈষম্য সমাজের অগ্রণী পথিক , চিন্তাবিদ কমরেড আজিজুল হক.

শেয়ার করুন

অর্পণ বন্দ্যোপাধ্যায় : গত কাল ২১ জুলাই সোমবার, দুপুর আড়াইটে নাগাদ প্রয়াত হলেন লেখক, প্রাবন্ধিক, বক্তা, এবং বামপন্থী নেতা আজিজুল হক। নকশালবাড়ি আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন আজিজুল হক, সিপিআই (এম-এল)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। বাড়িতে পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই শারীরিক অবস্থা ক্রমে খারাপের দিকে যেতে থাকে। সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ভেন্টিলেশন সাপোর্টে ছিলেন। রক্তে সংক্রমণও ধরা পড়ে।

Advertisement

আজিজুল হকের (Azizul Haque) জীবনের সুদীর্ঘ সময় কেটেছে জেলে। ১৯৭৭ সালে মুক্তি পেলেও ১৯৮২ সালে ফের গ্রেফতার হন তিনি। তাঁর লেখা কারাগারে ১৮ বছর শীর্ষক বইটি নকশাল আন্দোলন ও সাতের দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

সরাসরি রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন ভাষা শহীদ স্মারক সমিতি। আজিজুল হকের প্রয়াণ আদতেই একটি যুগের অবসান। ঐতিহাসিক ও অস্থির সময়ের জীবন্ত দলিল ছিলেন তিনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কলম চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।

রাজ্যে সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আন্দোলন পর্বে তিনি সরাসরিই বামফ্রন্ট সরকারের পক্ষে দাঁড়ান এবং খোলাখুলি তাঁর মতপ্রকাশ করেন। যা নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বহু কুৎসা করা বলেও তিনি মত বদল করেননি।

২০১১ সালে পালাবদলের পরেও তিনি বিভিন্ন প্রতিবাদ, বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। দীর্ঘদিন আগেই প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন আজিজুল হক। কলকাতায় তৈরি করেছিলেন ‘ভাষা শহিদ স্মারক সমিতি’। এরপর থেকেই তিনি লেখালেখিতেই মনোনিবেশ করেন। কলকাতা ও দেশের বিভিন্ন নামী সংবাদপত্রে তিনি দীর্ঘসময় লেখালিখি করেছেন। এছাড়াও কারাবন্দী থাকা অবস্থায় তিনি রচনা করেন ‘কারাগারে ১৮ বছর’। যে বইতে তিনি কারাগারে থাকাকালীন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কথা তুলে ধরেছিলেন এবং যে বইকে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল হিসেবেই মনে করা হয়।

তাঁর লিখিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে আছে ‘লাল টুকটুকে দিন’, ‘মনু মহম্মদ হিটলার’, ‘ছুটন্ত সময় ফুটন্ত মানুষ’, ‘হাতির খোঁজে রাজা’ প্রভৃতি।

১৯৪২ সালের ২৮ আগস্ট হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় এক বর্ধিষ্ণু পরিবারে জন্ম আজিজুল হকের। বহু বিশিষ্ট জন তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

সমগ্র দেশে যখন বামপন্থীরা আক্রান্ত হচ্ছে ঠিক সেই সময় এই মানুষটি ছিলেন প্রতিবাদের ভাষা ও প্রতিবাদের মুখ। ব্যক্তিগত ভাবে বহুবার এই নকশাল নেতার মুখে শুনেছি “যে আমাকে বামপন্থীরা যেরকম অত্যাচার করেছে তা কল্পনা করা যায় না তবুও আমি মনে করি সমগ্র, বিশ্বসমাজ থেকে দারিদ্র শ্রেণীবৈষম্য, ক্ষুধার্তের মুখে অন্ন তুলে দিয়ে এক নুতন সমাজের জন্ম দিতে পারে বামপন্থীরা। ব্যক্তিগত ভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচাৰ্য এর সহিত তার বিশেষ সুসম্পর্ক ছিল কষ্ট পেয়েছিলেন তার চলে যাওয়ায় শেষবারের মত এবারও তাকে পাওয়া গেছিল কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তক মেলায়, কিন্তু সব শেষ সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে থেমে গেল নবজীবনের পথিক আজিজুল হকের জীবন। যে লোকেই থাকুন ভালো থাকুন কমরেড আজিজুল হক।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ