কলকাতা 

আগামী দিনের জন্য বাসযোগ্য করতে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতেই হবে। কমাতে হবে আমাদের চাহিদার পাহাড়

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : অনুসন্ধান সোসাইটির পরিচালনায় এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আয়োজন ছিল একেবারেই অন্যরকম। পরিবেশ দিবস প্রসঙ্গে জ্ঞানগর্ভ আলোচনার সঙ্গে ছিল বিশেষ ফোল্ডার ‘পরিবেশ শেখা-শিখি’ প্রকাশ এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পরিবেশ সচেতনতার ওপর গত এক মাস ধরে চলা নানারকমের প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা। টানটান উত্তেজনা নিয়ে অনলাইনে খুদে পড়ুয়াদের অপেক্ষা আবার পরিবেশ নিয়ে বড়দের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা মন দিয়ে শুনছে তারা, এই দৃশ্য সাধারনত দেখতে পাওয়া যায় না। এদিন অনুসন্ধান সোসাইটির অনলাইন আয়োজনে ঘন্টা দুয়েকের পরিসরে এই দৃশ্য বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে।

এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আয়োজক দেশ দক্ষিণ কোরিয়া এবং থিম ছিল প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে লড়াই। এই কর্মসূচিতে মূল লক্ষ্য ছিল বিশেষত আমাদের ঘরের ছেলেমেয়েদের এবং আপামর ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পরিবেশের দিকে খেয়াল রাখা কতটা জরুরি সেই ভাবনা জাগ্রত করা এবং সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের প্রতি যত্নবান না হলে আমাদের জীবনে কত রকম ভাবে বিশৃঙ্খলা নেমে আসতে পারে, সে সম্পর্কে সচেতন করা।

Advertisement

আলোচনা প্রসঙ্গে উঠে আসে, পরিবেশ রক্ষার জন্য প্রয়োজন সিম্প্লিসিটি বা সাধারণ জীবন যাপন। বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নিশ্চয়ই থেমে থাকবে না, কিন্তু তাই বলে নিত্য-নতুন ব্যবহার্য বস্তু আমাদের জীবনকে গ্রাস করবে, তা তো হতে পারে না। চাহিদার মাত্রা পাহাড় পরিমান হয়ে যাবে, সুখ ভোগ বিলাসিতায় গা ভাসিয়ে দেব আর সবকিছু ঠিকঠাক চলবে এমনটা তো সম্ভব নয়। এর ফলে বেসামাল হয়ে পড়বে সুন্দর এই বসুন্ধরা। এদিকটাতে বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে আমাদের। জীবন শৈলীতে পরিবর্তন আনতে হবে আমাদের প্রত্যেককে। তবেই পরিবেশ ঠিক থাকতে পারবে বলে মনে করেন এ দিনের বিজ্ঞ আলোচকরা।

 

এদিন অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ছিলেন অধ্যাপক শান্তনু রায়। বক্তব্য রাখেন কৃষি বিজ্ঞানী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান খান, ডঃ উজ্জ্বলা সাহা রায়।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এই আয়োজনের অংশ হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে দশ দিনব্যাপী এক সচেতনতা শিবির করেছিলেন ডঃ উজ্জ্বলা সাহা রায়। সেখানকার অভিজ্ঞতার কথাও শোনান তিনি। ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের পরিবেশ নিয়ে নিজেদের দায়িত্ব ও শপথের কথা উঠে আসে তাঁর বক্তৃতায়।

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আয়োজিত বিভিন্ন বিভাগের প্রতিযোগিতায় পুরস্কার ঘোষণা করেন নাফিসা ইসমাত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অনুসন্ধান সোসাইটির সভাপতি ডঃ দেবব্রত মুখোপাধ্যায় এবং অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন ডঃ শশাঙ্ক শেখর মন্ডল। বিশিষ্ট শিক্ষক সাহাবুল ইসলাম গাজীর সম্পাদনায় এদিন প্রকাশিত ফোল্ডারটি সকলের কাছে প্রশংসিত হয়।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ