দেশ 

বিচার চেয়ে শনিবার গভীর রাতে মুখ্যমন্ত্রী সহ দুই মন্ত্রী ও তিন বিধায়কের বাড়িতে হামলা উন্মত্ত জনতার! মনিপুরের পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে!

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : কয়েকদিন ধরে মনিপুরের সহিংসতা যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা নিয়ে দেশের সমস্ত মিডিয়া, গণমাধ্যম নীরবতা অবলম্বন করেছে। মহারাষ্ট্রের নির্বাচনে কি হবে কিংবা ঝাড়খণ্ডের নির্বাচনে বিজেপি জিতবে কি জিতবে না তা নিয়ে যতটা আলোচনায় ব্যস্ত আছে গণমাধ্যমগুলি ঠিক ততটাই অবজ্ঞা করেছে মণিপুরের সাধারণ নাগরিকদের। দেশের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বেশ কয়েকবার মণিপুরের সাধারণ নাগরিকদের দুঃখ- দুর্দশার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এখন নাইজেরিয়া সফরে ব্যস্ত। আর যা হবার তাই হচ্ছে মণিপুরে।

বেশ কয়েক মাস আগে প্রখ্যাত সমাজ সেবী এবং সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা অনুরাধা তরোয়াল বলেছিলেন মানুষ যখন প্রশাসনের কাছে বিচার পায় না মানুষ যখন আদালতে ও বিচার পায় না তখন সড়কে এসে দাঁড়িয়ে যায়। সাধারণ মানুষ যখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাবে তখন যে কোন শাসকের কাছেই মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে এবং পতন হয়ে যেতে পারে। শনিবার রাতে এই দৃশ্যই দেখা গেল মণিপুরে। মুখ্যমন্ত্রী বাড়ি ঘেরাও করে ফেলল সাধারণ নাগরিকরা। যদিও শনিবার বিকেল থেকেই রাজধানী জুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে তারপরেও কারফিউকে অগ্রাহ্য করে সাধারণ নাগরিক মুখ্যমন্ত্রী বাড়ির সামনে যে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। শনিবার রাতেই ওই রাজ্যের দুই মন্ত্রী এবং তিন বিধায়কের বাড়িতে হামলা হয় এরপর দেখা যায় উন্মত্ত জনতা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে যায়।নিরাপত্তারক্ষীরা কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে কোনও রকমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন। রাতে সে সময়ে বাড়িতে বীরেন ছিলেন না বলেই খবর। তিনি রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরেই রয়েছেন।

Advertisement

শনিবার মণিপুরের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সাপম রঞ্জন, উপভোক্তা বিষয়কমন্ত্রী এল সুসীন্দ্র সিংহ বিজেপি বিধায়ক তথা মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহের জামাতা আরকে ইমো-সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিকের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের দাবি, জিরিবাম জেলায় ছ’জনকে খুন করায় অভিযুক্ত যাঁরা, তাঁদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিকেল সাড়ে ৪টে থেকে ইম্ফলে কার্ফু জারি করা হয়। ইম্ফল পশ্চিম, ইম্ফল পূর্ব, বিষ্ণুপুর, চূড়াচাঁদপুর-সহ মোট সাত জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাগত একাধিক বিধিনিষেধও জারি করা হয়েছে। তবে রাজধানীতে উত্তেজনা রয়েছে।

রবিবার সকালে মণিপুর পুলিশ জানিয়েছে, ১৬ নভেম্বর রাতে উত্তেজিত জনতা মণিপুরের একাধিক মন্ত্রী, বিধায়কের বাড়ি এবং সরকারি সম্পত্তিতে হামলা চালিয়েছে। কোথাও কোথাও পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনী এবং অসম রাইফেল্‌সের জওয়ানদের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। রাতের ঘটনায় আট জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া, ইম্ফল পশ্চিম, ইম্ফল পূর্ব এবং বিষ্ণুপুর থেকে মোট ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একাধিক পিস্তল, কার্তুজ এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এলাকায় কার্ফু জারি রয়েছে। আপাতত দু’দিনের জন্য এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে।

ঘটনার সূত্রপাত কিছু দিন আগে। মণিপুরের জিরিবামে কুকি জঙ্গি এবং সিআরপিএফ জওয়ানদের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। অভিযোগ, সেই সময় একদল কুকি জঙ্গি মেইতেই সম্প্রদায়ের তিন মহিলা এবং তিন শিশুকে অপহরণ করে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন ১০ কুকি জঙ্গি। যদিও কুকি সম্প্রদায়ের দাবি, নিহত ১০ জন ছিলেন ‘গ্রামের স্বেচ্ছাসেবী’। জিরিবাম জেলা থেকে একই পরিবারের তিন মহিলা এবং তিন শিশুকে অপহরণের অভিযোগও উঠেছিল কুকি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে। ওই ছ’জন ছিলেন মেইতেই সম্প্রদায়ের। তাঁদের খোঁজ শুরু করেছিল নিরাপত্তাবাহিনী। শুক্রবার রাতে তিন জনের দেহ উদ্ধারের পর শনিবার উদ্ধার হয় আরও তিন জনের দেহ। দেহগুলি এখনও শনাক্ত করা যায়নি। তবে অনেকরই অভিযোগ, অপহৃত ছ’জনের দেহ নদীতে ভেসে এসেছে। দেহ উদ্ধারের পর থেকে উত্তেজনা বেড়েছে ইম্ফলে। বিচার চেয়ে এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইম্ফলের রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু হয়। এখনও পরিস্থিতি উত্তপ্ত।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ