কাজের দাবিতে পথ অবরোধ করে পুলিশি অত্যাচারের শিকার ওড়িশা থেকে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকরা
বিশেষ প্রতিনিধি : কাজের দাবিতে পথ অবরোধ করতে গিয়ে বুধবার সকালে পুলিশ ও শ্রমিকদের খন্ড যুদ্ধে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ এবং সাজুর মোড় এলাকা। ওড়িশায় পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে এরা কাজ করত কিন্তু ইদানিং সেখানে বাংলাদেশী বলে এদের উপরে অত্যাচার শুরু হয়েছে ফলে বাধ্য হয়ে ওই শ্রমিকরা বাড়ি ফিরে এসেছে।
আজ বুধবার নিজের রাজ্যে কাজের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। সেই অবরোধ তুলতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়াল পুলিশ। অভিযোগ, প্রথমে বচসা, তার পরে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু করেন কয়েক জন। ভাঙচুর করা হয় একাধিক গাড়ি। পাল্টা কাঁদানো গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। তাতে আরও উত্তেজনা ছড়ায়। পরে আরও পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওড়িশায় কাজ করতে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকেরা দলে দলে ফিরে আসছেন রাজ্যে। ওই শ্রমিকদের অভিযোগ, ওড়িশায় দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও ইদানীং তাঁরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছিলেন। তাই সে রাজ্যের পাট গুটিয়ে বাড়ি ফিরে আসছেন তাঁরা। মঙ্গলবার দুপুরেও জনশতাব্দী এক্সপ্রেসে চড়ে কয়েকশো পরিযায়ী শ্রমিক হাওড়া স্টেশনে এসে নামেন। প্ল্যাটফর্মে নামার পরেই তাঁরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, ওড়িশায় তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে মারধর করা হচ্ছে। খুনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। সব থেকে বড় কথা, স্থানীয় পুলিশের কাছে গেলে তারা অভিযোগ পর্যন্ত নিচ্ছে না।
বুধবারের অশান্তি নিয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় খবর, ওড়িশা থেকে মুর্শিদাবাদের ফিরে এসেছেন বেশ কয়েক জন পরিযায়ী শ্রমিক। তাঁরা প্রত্যেকে কাজের দাবি করে অবরোধে শামিল হন বুধবার সকালে। সেই অবরোধ তুলতে গিয়েই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। অন্য দিকে, অবরোধকারীরা জানাচ্ছেন, বাড়ি এসে তাঁদের হাতে কাজ নেই। সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। তাই পথে নেমেছেন।
পুলিশ শ্রমিক সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন একজন পুলিশ আধিকারিকও আহত হয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে কাজের দাবিতে অবরোধ করেছে তারা তাদের সেই দাবি পূরণ না করে তাদের উপরে হামলা করাটা কি পুলিশ নৈতিকতার দিক থেকে ঠিক করেছে?

