কলকাতা 

আন্দোলনের চাপে পদ ছাড়লেন আরজি করের অধ্যক্ষ একই সঙ্গে ছাড়লেন চাকরিও!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : আর জি কর কর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের পর থেকে পদত্যাগ আগেই করেছিলেন এবার একই সঙ্গে অধ্যাপক পদেও ইস্তফা দিলেন সন্দীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট করে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন রাজ্য সরকারের চাকরি তিনি ছেড়ে দিলেন। তিনি বলেছেন আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আরজি কর হাসপাতালকে দুর্নীতিমুক্ত করতে আমি এসেছিলাম তা পারলাম না বলে ছেড়ে দিলাম।

উল্লেখ্য আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রথম ও প্রধান দাবি ছিল আরজিকর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের অপসারণ। জুনিয়র চিকিৎসকদের এই দাবিকে প্রথমের দিকে রাজ্য সরকার মান্যতা দেয়নি। যেকোনো কারণেই হোক আরজিকর মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ মরসিপাট্টা গেরে বসেছিলেন ওই হাসপাতালে। দু একবার বদলির চেষ্টা হয়েছে কিন্তু সেই পর্যন্তই। কয়েক মাস আগেও বদলি র নির্দেশ আসার পরেও তিনি তার অফিসে চাবি দিয়ে চলে যান ওই পদে যোগ দিতে আসা অন্য একজন ফিরে যেতে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে দেখা যায় বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ স্নেহ সন্দীপ ঘোষের প্রতি আছে বলে অনেকেই বলে থাকেন তেমনি আজকে তাঁর বক্তব্য ও প্রতিফলিত হয়েছে।

লাগাতার আন্দোলনের চাপে সোমবার সকালেই অধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন সন্দীপ। যুবতী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার প্রতিবাদে আরজি করে গত শুক্রবার থেকে জুনিয়র চিকিৎসকদের যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তার অন্যতম দাবি ছিল সন্দীপকে অধ্যক্ষ পদ থেকে সরানো। সোমবার সকালে তিনি পদত্যাগের কথা জানান। এ বার জুনিয়র চিকিৎসকেরা কাজে ফিরবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন। তার পরেও আন্দোলনকারীরা দাবি করেছিলেন, তাঁরা কারও মুখের কথায় বিশ্বাস করতে রাজি নন। তাঁরা লিখিত পদত্যাগ চান অধ্যক্ষের। সেই সঙ্গে দাবি ছিল, সন্দীপকে ক্ষমা চাইতে হবে।

এর পরেই ইস্তফাপত্র জমা দিতে স্বাস্থ্য ভবনে যান সন্দীপ। সেখান থেকে বেরিয়ে বলেন, ‘‘অধ্যক্ষ শুধু নয়, আমি অধ্যাপক পদ থেকেই ইস্তফা দিচ্ছি। সরকারি চাকরি ছেড়ে দিচ্ছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি বরাবর স্পষ্টবক্তা। কেউ চুরি করলে তাকে চোর বলি। আর স্পষ্টবক্তাদের শত্রু বেশি হয়। আমি সবসময় সরকারের নির্দেশ পালন করেছি। স্পষ্ট কথা বলতে গেলে রাজনীতির রং লাগানো হয়েছে তাতে। কিন্তু আমি মানুষ হিসাবে কাজ করেছি।’’

আরজি করের আগের পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে সন্দীপ বলেন, ‘‘এই আরজি কর ছিল ঘুঘুর বাসা। তোলাবাজি চলত দেদার। তাতে নেতাদের মদতও ছিল। আমি এসে বন্ধ করেছি সে সব। এখানে এখন তোলাবাজি হয় না। আগে জন্ম বা মৃত্যুর শংসাপত্র পেতে অনেক অপেক্ষা করতে হত। ঘুষ দিতে হত। আমি তা বন্ধ করেছি। তিন বছর আগের আরজিকর আজকের চেয়ে অনেক আলাদা। যে কোনও রোগীকে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। অভিযোগ পেলে সদর্থক উত্তর দিয়েছি। এই ঘটনার সঙ্গে কয়েক জন অধ্যাপক জড়িত। তাঁরা আমার সঙ্গে পেরে ওঠেননি। তাই আমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। আমি কখনও কাউকে আড়াল করার চেষ্টা করিনি।’’

যাইহোক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন আরজি করের অধ্যক্ষ পদত্যাগ করেছেন তাকে অন্য কোথাও দেওয়া যায় কিনা চিন্তাভাবনা চলছে। প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপবাবু যাই বলুক না কেন অভিযোগের তির কিন্তু তার দিকেই বেশি। জুনিয়র চিকিৎসকদের বড় অংশ তাঁর বিরুদ্ধে। খানিকটা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার মত দেশের মানুষের সমর্থন তার প্রতি নেই তিনি বলে যাচ্ছেন আমি দেশের উন্নয়ন করেছি অতএব আমি থাকবো। সন্দীপ ঘোষের ক্ষেত্রে সেই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে সমর্থন করছেন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ