দেশ 

রাষ্ট্রীয় মদতে মোবাইল ফোন হ্যাকিং রাহুল মহুয়ার অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ কেন্দ্রের!

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক  : মঙ্গলবার সকালে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের একটি টুইট দেশের রাজনীতিকে চমকে দিয়েছে। তিনি সাবেক এবং বর্তমান এক্স হ্যান্ডেল এ মন্তব্য করেছেন অ্যাপেল এর পক্ষ থেকে নাকি তার কাছে বার্তা এসেছে যে রাষ্ট্রীয় মদতে হ্যাকিং করা হতে পারে তাঁর মোবাইল। আর এই টুইটের পরে পরে ই দেশের বিরোধী দলের নেতারা একের পর এক টুইট করতে থাকেন। এরপরেই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে অ্যাপেল কেন এ ধরনের নির্দেশ দিয়েছে বা বার্তা দিয়েছে তা হবে তদন্তের বিষয়। মহুয়া মৈত্রের এক্স হ্যান্ডেল পোস্ট করার কিছুক্ষণ পরেই অ্যাপলের ওই সতর্কবার্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে একের পর এক তোপ দাগছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধীরা। এরপরই বিরোধীদের আক্রমণের জবাবে কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, ‘‘বিরোধীরা সমালোচনার অজুহাত খুঁজতে থাকেন। কেন্দ্রকে আক্রমণ করার কোনও বড় কারণ না পেয়ে এখন হ্যাকিং নিয়ে সুর চড়াচ্ছেন তাঁরা।’’ তবে একই সঙ্গে মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘‘অ্যাপলের ওই সতর্কবার্তা শুধু ভারতে নয়, আরও অন্তত ১৫০টি দেশে গিয়েছে। কেন ওই সতর্কবার্তা এল, তা জানতে বিশদ তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।’’

মঙ্গলবার সকালে আইফোন হ্যাকিং সংক্রান্ত সতর্কবার্তা পাওয়ার কথা প্রথম সমাজমাধ্যমে জানান তৃণমূল সাংসদ মহুয়া। পরে জানা যায়, একা মহুয়া নন, তাঁর সঙ্গে শিবসেনার মুখপাত্র প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদী, কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর, আপ সাংসদ রাঘব চড্ডা, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, সিপিএম সাংসদ সীতারাম ইয়েচুরি এবং কংগ্রেসের কে সি বেণুগোপাল, পবন খেরাও অ্যাপলের থেকে ওই সতর্কবার্তা পেয়েছেন।

Advertisement

এর পরেই এক্স হ্যান্ডলে মহুয়া লেখেন, “এ তো জরুরি অবস্থার থেকেও খারাপ পরিস্থিতি!” পরে কংগ্রেস সাংসদ রাহুলও একটি সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তোপ দেগে বলেন, এ সবই আসলে বিরোধীদের তরফে আদানিকে আক্রমণের ফল। তার কারণ প্রধানমন্ত্রী মোদীর আসল ক্ষমতা নিহিত রয়েছে আদানি নামের ‘তোতাপাখি’র ভিতরে। বিরোধীরা সে দিকে হাত বাড়াতেই তাঁদের হ্যাকিংয়ের সতর্কবার্তা পাঠিয়ে বেপথু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আসলে কেন্দ্র চাইছে আদানি আক্রমণ ছেড়ে বিরোধীরা অন্যত্র মনযোগ দিক। যদিও কেন্দ্রের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী এই সমস্ত অভিযোগকে বিরোধীদের অকারণ সমালোচনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, অ্যাপলের ওই বার্তার বক্তব্যের কোনও ব্যাখ্যা কেন্দ্রের কাছে নেই। ওই সতর্কবার্তার জন্য কেন্দ্রকে দোষারোপ করতে শুরু করেছে বিরোধীরা। যদিও ওই বার্তা আরও অন্তত দেড়শোটি দেশে গিয়েছে। সব সময় এমন সতর্কবার্তা যে সত্যি হয়, তা-ও নয়। এই বার্তাও সেই রকম ‘ফল্‌স অ্যালার্ম’ হতে পারে বলে জানান অশ্বিনী। তবে একই সঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘‘ওই বার্তা কেন এল, তা জানতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। যাঁরা ওই সতর্কবার্তা পেয়েছেন, তাঁরা যেন তদন্তে সহযোগিতা করেন।’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ