কলকাতা 

২০১৬ এর প্যানেলে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে নিয়োগকৃত ৫৫০০ জন সহ ওয়েটিং লিস্টে থাকা সকল চাকরি প্রার্থীর উত্তরপত্র প্রকাশের নির্দেশ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের, বিপাকে রাজ্য সরকার ও এসএসসি

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে ৫৫০০ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল তাদের সকলেরই উত্তরপত্র প্রকাশ করতে নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় । একই সঙ্গে ওই সময়ে থাকা ওয়েটিং লিস্টে চাকরি প্রার্থীদের নাম এবং উত্তরপত্র প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

ওয়াকিবহালমহল বলছেন এতদিন ধরে মাধ্যমিক স্তরে অর্থাৎ যে সকল চাকরি প্রার্থী পাস কোর্স ডিগ্রিতে চাকরি পেয়েছেন তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়ম অনিয়মের তদন্ত চলছে। এই নির্দেশের পর এবার একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীও তদন্তের আওতায় এসে গেল। ফলে আরো বেশি চাপে পড়ে গেল রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন।

Advertisement

শুক্রবার বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে ৫,৫০০ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা-সহ ওয়েটিং লিস্টে থাকা চাকরিপ্রার্থীদের উত্তরপত্র প্রকাশ করতে হবে। ওএমআর শিটের পাশাপাশি নাম, বাবার নাম, ঠিকানা, স্কুলের নাম-সহ ৯০৭ জনের তালিকা প্রকাশ করতে হবে, যাঁদের বিকৃত উত্তরপত্র উদ্ধার করেছিল সিবিআই।

কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে ২০১৬ সালে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষার বিস্তারিত মেধাতালিকার প্রকাশের আবেদন করে মামলা করেন ববিতা। তাঁর দাবি, ২০১৬ সালের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৫,৫০০ জনকে নিয়োগ করা হয়েছিল। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ৯০৭টি বিকৃত উত্তরপত্র (ওএমআর শিট) উদ্ধার করে সিবিআই। তার মধ্যে ১৩৮ জন ছিলেন প্রতীক্ষিত তালিকায় (ওয়েটিং লিস্টে)।

ববিতার আবেদন, একাদশ-দ্বাদশের বিস্তারিত তথ্য-সহ প্যানেল প্রকাশ পেলে কারা, কী ভাবে, কোথায় চাকরি পেয়েছেন তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। যদি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রথম ২০ জনের মধ্যে দুর্নীতির কারণে কেউ চাকরি পেয়ে থাকেন, তবে তাঁর আবার শিক্ষিকা হওয়ার সুযোগ আসবে। তাই প্যানেল প্রকাশ করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় ২০১৬ সালে নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরি পাওয়া ৫,৫০০ জনের উত্তরপত্র প্রকাশের নির্দেশ দেন।

এক সময় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীর বিরুদ্ধে নিয়ম-বহির্ভূত পদ্ধতিতে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ এনে আদালতের দ্বারস্থ হন ববিতা। মামলা শেষে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে স্কুলশিক্ষিকা পদ হারিয়েছিলেন অঙ্কিতা। সেই চাকরি ববিতাকে দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। এর পর ববিতারও চাকরি বাতিলের দাবিতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শিলিগুড়ির বাসিন্দা অনামিকা। তাঁর অভিযোগ ছিল, স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-এর কাছে আবেদন করার সময় ববিতার স্নাতকস্তরের শতকরা নম্বর বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে, যার ফলে তাঁর ‘অ্যাকাডেমিক স্কোর’ বেড়ে গিয়েছে।

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে এ বার চাকরি হারান ববিতা। সেই চাকরি অনামিকাকে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অঙ্কিতার থেকে যে টাকা ববিতা পেয়েছিলেন, তা-ও ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় তাঁকে।

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন ববিতা। সেই মামলা এখনও ডিভিশন বেঞ্চেই বিচারাধীন। তার মাঝেই মেধাতালিকা, উত্তরপত্র দেখতে চেয়ে নতুন মামলা করলেন ববিতা।

ববিতার এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আরো কোনো বড় দুর্নীতির সামনে আসে কিনা, সেটাই এখন দেখার।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ