দলের নেতা কর্মী সমর্থক এবং ভাঙ্গড়ের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে নওশাদ! দেখা করলেন না মুখ্যমন্ত্রী, আইএসএফের রাজনৈতিক কৌশলে তৃণমূল হারালো কমিটেড ভোট!
বুলবুল চৌধুরী : মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে দেখা করতে গেলেন ভাঙ্গড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। আজ বুধবার বিকেল তিনটে নাগাদ তিনি হঠাৎ নবান্নে গিয়ে পৌঁছান। গতকাল দক্ষিণ 24 পরগনার ভাঙ্গড়ে পঞ্চায়েত নির্বাচন উপলক্ষে আইএস এফ নেতা কর্মীদের মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে যে অশান্তি সংঘটিত হয়েছিল ঠিক তার পরের দিনে হঠাৎ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নওশাদ সিদ্দিকী পৌঁছে যাওয়ায় রাজনৈতিক চাপে পড়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও দেশের অন্যতম প্রবীণ রাজনীতিবিদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবীন রাজনীতিবিদের কৌশল এর কাছে কার্যত হেরে গেলেন। মুখ্যমন্ত্রী দেখা না করতে চেয়ে এ রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজ এবং ফুরফুরা শরীফের অপমান যে করেছেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। একজন বিধায়ক যদি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে না পারেন তাহলে সেই মুখ্যমন্ত্রী জনতার কতটা কাজ করবে তা নিয়ে জনতার মধ্যেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।
ফলে নওশাদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দেখা না করে কার্যত এ রাজ্যের তৃণমূলের যে কমিটেড ভোট সেটা যে হারাতে চলেছে তা এক কথায় বলে দেওয়া যায়। আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না, মুখ্যমন্ত্রীকে পরামর্শ কারা দেন এইভাবে একটি রাজনৈতিক দলের সব রকম সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্যই আজকে এ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সংকট তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে। স্পষ্ট করেই বলা যায় মুখ্যমন্ত্রীর কমিটেড ভোট যদি বেরিয়ে যায় তাহলে আর যাই হোক বিজেপির সঙ্গে যতই গোপন সমঝোতা করার চেষ্টা করুক না কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাাতে কোন ফল হবে না বরং আরো বেশি ক্ষতি হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবং তার সরকারের। পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে নওশাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে তিনি যদি দেখা করতেন তাহলে আমাদের মনে হয় তিনি অনেক বেশি রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে পারতেন। তিনি দেখা না করে যে যুদ্ধং দেহি মনোভাব দেখালেন তাতে আর যাই হোক ক্ষতি হলো তৃণমূল কংগ্রেসের।
রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী কাছে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের নেতা কর্মীদের নিরাপত্তা চেয়ে কার্যত তৃণমূল কংগ্রেসকে এই রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে উন্মুক্ত করে দিলেন নওশাদ। মুখ্যমন্ত্রী যদি ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের কর্মী সমর্থকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হন তাহলে তার পুরোপুরি দায় মুখ্যমন্ত্রী ওপর পড়বে। রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজের কাছে মুখ্যমন্ত্রী যে এক ঘরে হয়ে পড়বেন তার বলার অপেক্ষা রাখে না। নওশাদ সিদ্দিকীর এই রাজনৈতিক কৌশল কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে অনেকটাই দিশেহারা করে দেবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
কারণ পঞ্চায়েত নির্বাচন চলাকালীন সময়ে কোন রাজনৈতিক দলের নেতারা সাধারনত রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা সরাসরি চান না। কিন্তু নওশাদ সিদ্দিকী চাইতে গেলেন যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিরাপত্তা দিতে পারেন সে ক্ষেত্রে তৃণমূল দলের খানিকটা হলেও লাভ হবে, আর যদি অশান্তি তীব্র থেকে তীব্র হয় তাহলে মনে রাখতে হবে তৃণমূল কংগ্রেসেরই আখেরে ক্ষতি হবে।

