দেশ 

নির্বাচনী প্রচারে ভারতে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ উস্কে দেওয়া হচ্ছে, ভারত সফররত আমেরিকার বিশিষ্ট কূটনীতিবিদের মন্তব্য ঘিরে চরম অস্বস্তিতে মোদি সরকার

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক: গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা উস্কে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন আমেরিকার কূটনীতিবিদ এলিজাবেথ জোন্স। এলিজাবেথ এখন ভারত সফরে রয়েছেন আর এই সময় এই ধরনের মন্তব্য করায় বিতর্ক জোরদার হয়েছে। সম্প্রতি দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ ২০০২ এর গুজরাট দাঙ্গা প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেছিলেন ওদেরকে উচিত শিক্ষা দেয়া হয়েছে এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা ও সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন হিন্দুরা দাঙ্গা করে না। এ নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে সকল পড়েছে এই ধরনের সম্প্রদায়িক কথাবার্তা বলার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত আমেরিকার কূটনীতিবিদের মন্তব্য যা ভারত সরকারকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে।

ভারত সফররত আমেরিকার শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক এলিজাবেথ জোন্স কারও নাম না করেও তিনি পরিষ্কার দাবি করেছেন, ভারতে নির্বাচনী প্রচারে যেভাবে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা উসকে দেওয়া হচ্ছে সেই বিষয়টি বারবার তুলবে আমেরিকা। আলোচনা করতে চাইবে নয়াদিল্লির সঙ্গে।

Advertisement

এপ্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এলিজাবেথ বলেছেন, ”এটাই এই ধরনের সম্পর্কের সুবিধা। নানা বিষয়ে আমরা আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি। বিভিন্ন ইস্যু। কিছুতে আমরা একমত। কিছুতে নই।” এরপরই রাজনৈতিক প্রচারে সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ”আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এই নিয়ে কথা বলছি। এবং ভবিষ্যতেও বলব।”

সম্প্রতি গুজরাটে এসে এক জনসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ২০০২ সালের দাঙ্গা প্রসঙ্গে বলতে শোনা গিয়েছিল, ”২০০২ সালে বিজেপি (BJP) সরকার সমাজ বিরোধীদের উচিত শিক্ষা দিয়েছে। তারপরই অসামাজিক কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আজ বিজেপির দৌলতেই গুজরাটে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” তিনি কোনও বিশেষ সম্প্রদায়ের নাম না করলেও কড়া হিন্দুত্বের ধ্বজাধারী বিজেপির নেতা তিনি, তাই তাঁর ওই বক্তব্যের পিছনে টার্গেট যে মুসলিমরাই, তা পরিষ্কার বোঝা গিয়েছে বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।

এদিকে হিমন্ত বিশ্বশর্মা এপ্রসঙ্গে বলেছেন, “হিন্দুরা সাধারণত দাঙ্গা করে না। ২০০২ সালের পর রাজ্যে শান্তি স্থাপন করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ করে গুজরাট সরকার। দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে শান্তি বিরাজ করছে। এখন আর সেখানে কোনও কারফিউ হয় না। সস্প্রদায় হিসেবে জেহাদের মতো কোনও কিছুতে হিন্দুরা বিশ্বাসী নয়। ”

যদিও ভারত সফররত আমেরিকার বিশিষ্ট কূটনীতিবিদ এলিজাবেথ জোনসের এই মন্তব্যের পর এখনো পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি তাতে মনে করা হচ্ছে ভারত সরকার এ নিয়ে যথেষ্ট অস্বস্তিতে রয়েছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ