লক্ষ্মীপুজোর মেলায় পরিবেশ সচেতনতামূলক প্রচার
দীপাঞ্জন দে: নদিয়া জেলার দোগাছি বা দোগাছিয়া গ্রামের লক্ষ্মীপুজো খুবই বিখ্যাত। বছরভর গ্রামবাসীরা লক্ষ্মীপুজোর জন্য অপেক্ষায় থাকেন। দোগাছি গ্রামে দুর্গাপুজো, চড়ক, সরস্বতী পুজো প্রভৃতি বেশ ভালোভাবেই হয়। তবে লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীদের মধ্যে আলাদা রকমের উন্মাদনা থাকে। দোগাছি গ্রামের বাসিন্দাদের ‘দোগেছে’ বলে। লক্ষ্মীপুজোর সময় দোগেছেদের ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপুজো হয়। পাশাপাশি একাধিক ক্লাব, বারোয়ারি কমিটি বড় করে লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করে।

দোগাছি গ্রামের লক্ষ্মীপুজোর অন্যতম আকর্ষণ হল পুজোকে কেন্দ্র করে বসা মেলা। এই মেলা ভাসান মেলা নামে অধিক পরিচিত। এই মেলা প্রায় তিন দশক ধরে হয়ে আসছে। বহু দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ প্রতিবছর দোগাছির লক্ষ্মীপুজোর মেলা দেখতে আসেন। ২০২২ সালে দোগাছির লক্ষ্মীপুজোর মেলায় ‘কৃষ্ণনগর পরিবেশ বন্ধু’র পক্ষ থেকে পরিবেশ সচেতনামূলক প্রচার কর্মসূচি চালানো হয়। পরিবেশ বন্ধুর সদস্যরা লক্ষ্মীপুজোর মেলায় ‘উৎসব হোক পরিবেশবান্ধব’ এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। পরিবেশ বন্ধুরা মেলার দোকানগুলিতে গিয়ে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ বর্জনের আবেদন জানান। দোকানিদের হাতে তাদের লিফলেটও তুলে দেন। ভাসান মেলা কমিটির মঞ্চ থেকে পরিবেশ বন্ধুর সদস্যরা সকলকে পরিবেশবান্ধব উৎসবে সামিল হতে অনুরোধ করেন। শব্দবাজি, আতশবাজি বর্জন করে দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। ডিজের দাপট কমিয়ে আনার অনুরোধ করেন পরিবেশ বন্ধুরা।

করোনা অতিমারির কারণে দুই বছর এই মেলা বন্ধ থাকায় সকলে খুবই নিরাশ হয়েছিলেন। দুই বছর পর ২০২২ সালে মেলার জন্য প্রশাসনের অনুমতি পাওয়া গিয়েছে, তাই গ্রামবাসীরা খুবই আনন্দিত। এদিকে ১ জুলাই ২০২২ থেকে রাজ্যজুড়ে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সামগ্রী আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কৃষ্ণনগর পরিবেশ বন্ধুর সদস্যরা এদিন লক্ষ্মীপুজোর মেলায় পরিবেশ সচেতনতামূলক এই সকল বিষয়গুলি প্রচার করে জনগণকে সচেতন করেন।
লেখক: পরিবেশ কর্মী, কৃষ্ণনগর পরিবেশ বন্ধু।

