নৈসর্গিক মেরুজ্যোতির ঝলকানি আর প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য নিয়ে কলকাতার সায়েন্স সিটিতে শুরু হলো সম্পূর্ণ গম্বুজ পর্দায় ত্রিমাত্রিক ছবি ‘লাইফ আন্ডার দা আর্কটিক স্কাই
নায়ীমুল হকের প্রতিবেদন:
‘দাও ফিরে সে অরণ্য লও এ নগর

…… অনন্ত এ জগতের হৃদয়স্পন্দন’
কবিগুরুর ‘সভ্যতার প্রতি’ কবিতার লাইনগুলো বারবার মনে পড়ছিল এদিন কলকাতার সায়েন্স সিটিতে 23 মিটার গম্বুজের ত্রিমাত্রিক ছবি ‘লাইফ আন্ডার দা আর্কটিক স্কাই’ দেখার পর।

আজ 18মে বুধবার ‘ইন্টারন্যাশনাল মিউজিয়াম ডে’-কে কেন্দ্র করে কলকাতার গর্ব সায়েন্স সিটি স্পেস থিয়েটারে শুরু হলো বিশেষ উপায়ে নির্মিত গা ছমছম করা এই ছবি। এই ছবিতে ধরা পড়েছে মেরু অঞ্চলের নৈসর্গিক সেই আলোর ঝলকানি, লাল-বেগুনি- নীল-হলুদ রঙের সমাহার। সেই আলোয় ধরা পড়েছে সুমেরু অঞ্চলের অপরূপ প্রকৃতির দৃশ্যাবলী।

যেসব দৃশ্য 105 দিন ধরে বিভিন্ন উপায়ে হাই রেজোলিউশন ক্যামেরায় ধরা হয়েছে, ধরা পড়েছে সেখানকার অসম্ভব সুন্দর প্রকৃতির দান এবং তার মধ্যে দিয়েই বেড়ে ওঠা অতি সরল সাধারণ মানুষদের জীবনাচরণ। ছবিতে ধরা পড়েছে মানুষ-পশু-প্রকৃতির এক অসাধারণ সাযুজ্যের নিদর্শন। সায়েন্স সিটির স্পেস থিয়েটারের তেইশ মিটার গম্বুজের পর্দা যেন 41 মিনিট অন্য এক মায়াবী জগতে নিয়ে চলে গিয়েছিল উপস্থিত সকলকে।

ছবি প্রদর্শনীর পর সংক্ষিপ্ত এক চা-চক্রে সায়েন্স সিটির ডিরেক্টর অনুরাগ কুমার জানালেন নানা বৈজ্ঞানিক কারিগরিতে প্রস্তুত এই ছবি দেখানো শুরু হলো আজ থেকে, যেখানে ব্যবহার হয়েছে ছ’খানি বৃহৎ আকারের কৃষ্টি মিরেজ প্রজেক্টর, 30 মিলিয়ন পিক্সএল স্ক্রিন এবং এমন এক কোন থেকে দেখানো হয়েছে যাতে স্পেস থিয়েটারে উপস্থিত প্রত্যেকের এক আলাদা শিহরণ অনুভূত হয়।

এই দৃশ্য দেখে গ্রীষ্মের দাবদাহে কলকাতায় বসে যেন সেই মেরু অঞ্চলের হিমশীতল অনুভব করে এবং পৌঁছে যায় অন্য এক জগতে। এর সঙ্গে সঙ্গে অনুরাগ কুমার আরো বললেন মূলত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিজ্ঞানমূলক এই ছবি প্রদর্শনের উদ্যোগ,যেভাবে আধুনিক সভ্যতার নামে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে, তা সত্যিই অতি দুর্ভাবনার এক বিষয়। পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা এবং সেখানে বদল আনতে পারে ছাত্রসমাজেরাই। সেই দিকে খেয়াল রেখে প্রতিদিন সায়েন্স সিটিতে বেলা বারোটা থেকে পাঁচটা অবধি ছ’বার প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো বিদ্যালয় থেকে শিক্ষকসহ ছাত্র-ছাত্রীরা এলে, তাদের জন্য বিশেষ কনসেশন-এরও ব্যবস্থা আছে বলে তিনি জানান।

এদিন রোমহর্ষকর এই ছবির উদ্বোধন করেন সায়েন্স সিটির এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান এবং বোস ইনস্টিটিউট কলকাতার প্রাক্তন ডাইরেক্টর বিশিষ্ট বিজ্ঞানী শিবাজী রাহা, উপস্থিত ছিলেন সায়েন্স সিটির পাবলিক রিলেশন অফিসার সত্যজিৎ এন সিং প্রমূখ। সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় তাঁরা জানালেন ছবির বিভিন্ন দৃশ্যের কথা আরও জানালেন অসাধারণ এই ছবি ছাত্রছাত্রীসহ সকলের জন্য খুবই সময়োপযোগী, বিশেষ করে দূষণের কুফলে যখন সমগ্র সমাজ জর্জরিত। এক অনিয়ন্ত্রিত জীবনাচরণ আজ আমাদের সামনে সমূহ বিপদ খাড়া করেছে, সেখান থেকে আমাদের ফিরে আসতেই হবে।

আর সেই বদল আনতে হবে আমাদেরই। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বিজ্ঞানের কল্যাণে তার উচ্চতর ব্যবহারে মানুষ হয়ে পড়েছে আজ অনেক স্বার্থপর, ক্ষমতালোভী এবং অহংকারী। অথচ আমরা ভুলে গিয়েছি বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষ কিংবা সাফল্যের গোড়াপত্তন হয়েছে প্রকৃতির এসব উপাদান থেকেই। এই ছবি আমাদেরকে নিশ্চয়ই সে কথা আরও একবার মনে করিয়ে দেবে….. ‘ফিরিয়ে দাও মোরে বাঁচিবার অধিকার’

