‘বাংলায় যাবেন না। বাংলায় গেলে খুন হয়ে যেতে পারেন’ রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে বাংলার মমতা সরকারকে বেনজির আক্রমণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের
বাংলার জনরব্র ডেস্ক : ‘বাংলায় যাবেন না। বাংলায় গেলে খুন হয়ে যেতে পারেন।’ আজ বুধবার রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে এমনই মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (HM Amit Shah)। তাঁর এহেন মন্তব্যের বিরুদ্ধে রাজ্যসভায় বিতর্কের ঝড় ওঠে। শাহের বিরুদ্ধে সরব হন তৃণমূল সাংসদরা। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া, “হতাশা থেকেই এরকম কথা বলছেন অমিত শাহ। বাংলার মানুষের প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে পারেননি উনি। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে কী হয়, তিনি ভুলে গিয়েছেন।”
বুধবার ‘অপরাধী শনাক্তকরণ বিল, ২০২২’ বিল সংক্রান্ত জবাবি ভাষণ রাখছিলেন অমিত শাহ। সেই সময় আম আদমি পার্টির সাংসদ সঞ্জয় সিংয়ের এক প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় শাহ বলেন, “সঞ্জয়বাবু, গুজরাটে তো সবে গিয়েছেন। ভাল হয়েছে এখনও বাংলায় যাননি। বাংলায় গেলে খুন হয়ে যেতে পারেন।” এর পরই প্রতিবাদে সরব হন তৃণমূল সাংসদেরা। তুমুল প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এর পর বাংলায় বিজেপি কর্মকর্তাদের আক্রান্ত হওয়ার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলেন আমার উপরে হামলা হয়েছিল বাংলায় এমনকি আমাদের দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপিন আড্ডার উপরে হামলা হয়েছে অতএব বাংলায় কেউ সুরক্ষিত নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। সম্প্রতি পশ্চিমবাংলায় যে কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এখন শাসকদল অনেকটাই বেকায়দার মধ্যে রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ছাত্রনেতা আনিস খানের হত্যা থেকে শুরু করে গত কয়েকদিন আগে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের হেনস্থা সবক্ষেত্রেই শাসকদল কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। ছাত্রনেতা আনিস খান ঝালদায় কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু খুন হয়েছেন রামপুরহাটের বগটুইয়ে ১০ জনকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। এইসব ঘটনা মমতা সরকারের কাছে বেশ খানিকটা অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে। এরই মাঝে তৃণমূল ছাত্র নেতা গিয়াস উদ্দিন মন্ডল সম্প্রতি যে ভাষায় এবং যেভাবে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে হুমকি হেনস্তা এবং গালিগালাজ করেছে তাতে বিশ্বের দরবারে মমতা সরকারের চরিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আর এরপরই আজ সংসদে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে ভাষায় বাংলা এবং বাংলার সরকারকে আক্রমণ করলেন তাতে আর যাই হোক মমতা সরকারের অস্বস্তি বাড়লো তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

