বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএমের বাজি সায়রা শাহ হালিম ! কেন এই বাজি ? জানতে হলে ক্লিক করুন
বাংলার জনরব ডেস্ক : বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে প্রার্থী করে এই বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ৬০ শতাংশ মুসলিম ভোটারকে কার্যত তৃণমূল সর্ম্পককে হতাশ করেছে। বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের সাতটি ওয়ার্ডের মধ্যে চারটিতে সংখ্যালঘু মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। তা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে বাবুল সুপ্রিয়র মত একজন মুসলিম বিদ্বেষী নেতাকে ওই কেন্দ্রের প্রার্থী করেছেন তা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত একজন অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি কিভাবে বাবুল সুপ্রিয়র মত একজন মুসলিম বিরোধী ব্যক্তিত্বকে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী করলেন তা নিয়ে রাজ্যজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রাজ্য রাজনীতি থেকে প্রায়ই মানচিত্র হয়ে যাওয়া সিপিএম দল ঘুরে দাঁড়ানোর চিন্তা করতে শুরু করেছে।
বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে বরাবরই প্রার্থী হতেন সিপিএমের চিকিৎসক সংগঠনের নেতা বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং মানবিক মুখ ফুয়াদ হালিম। কিন্তু এবার বাবুল সুপ্রিয় এর বিরুদ্ধে সিপিএম দল প্রার্থী করেছেন হাসিম আব্দুল হালিমের বৌমা এবং আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য জমির উদ্দিন সাহেবের কন্যা এবং বিশিষ্ট অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ এর ভাইজি সায়রা শাহ হালিমকে। সিপিএম দলের এই সিদ্ধান্তকে বাংলার মানুষ খুব ভালো চোখে দেখছেন বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।

কেন অভিজাত পরিবারের কন্যাকে সিপিএম দল বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য বেছে নিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মনে রাখতে হবে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের সংখ্যালঘু মুসলিমরা এই ভোটে ভালো ভূমিকা রাখবে।। এখানে সেইসব সংখ্যালঘু মুসলিমরা বাস করেন যারা এক অর্থে মুসলিম সমাজের ক্রীম সোসাইটি বলে মনে করা হয়। এই অঞ্চলে বসবাসরত মুসলিম মহিলারা বহুদিন থেকেই দাবি করে আসছিলেন একজন মুসলিম মহিলা প্রার্থী দেওয়া হোক। সিপিএম দল সেই দাবিকেই অনেকটাই পূরণ করার চেষ্টা করেছে জামির উদ্দিন শাহের মেয়েকে প্রার্থী করে। ভোটের ফলাফল কি হবে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তা এখনই বলা সম্ভব না হলেও এটা স্পষ্ট হয়েছে যে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে এবার লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে বাবুল সুপ্রিয়কে প্রার্থী করার পর মুসলিম প্রধান ওয়ার্ডগুলিতে তৃণমূলের মুসলিম লিডাররা অস্বস্তিতে পড়েছেন। মুখে না বললেও মনে মনে তারা যে বিরক্ত তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। এই পরিস্থিতিতে হাসিম আব্দুল হালিমের বৌমাকে প্রার্থী করার পর বামেরা যে এইসব অঞ্চলে খানিকটা হলেও হালে পানি পেতে চলেছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।
বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে কে জিতবে আর কে হারবে সেটা ভবিষ্যতে বলবে কিন্তু এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে বাবুল সুপ্রিয়র মত মুসলিম বিদ্বেষী ব্যক্তিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী করে রাজ্যের মুসলিমদের কাছে খুব ভালো বার্তা তিনি দেননি। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্ত যদি বুমেরাং হয়ে যায় তাহলে কিন্তু রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের আস্থা ফেরানো কঠিন হয়ে উঠবে মমতার কাছে।
কারণ তৃতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ কর্মে এই রাজ্যের সংখ্যালঘু সমাজ খুশি নয়। আনিস খানের মৃত্যুর পর প্রায় ২২ দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত তার হত্যাকারীরা ধরা পড়েনি। আর আসানসোলের প্রখ্যাত ইমামের সন্তানকে দাঙ্গার শিকার হতে হয়েছিল সেই সময় ওই এলাকার তৎকালীন সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় এর মন্তব্য এখনো এ বাংলার সচেতন নাগরিকরা ভুলে যাননি। তার পরেও এই রকম একজন ব্যক্তিকে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘুদের কাছে কী বার্তা দিতে চাইলেন সেটা খুব স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে গেছে।
সায়রা শাহ হালিমের বায়োডাটা রীতিমতো চমকপ্রদ। বিদেশে পড়াশোনা, বহুজাতিক সংস্থায় ভাল চাকরি, নিখুঁত যুক্তি, দারুণ বাগ্মী – আরও একাধিক গুণের অধিকারী সায়রা। কেরিয়ার হতেই পারত নজরকাড়া। তবে বামপন্থী নেতার স্ত্রী মেহনতি মানুষের জন্য লড়াইকেই কাজের ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। তাই বালিগঞ্জ উপনির্বাচনে ( (Ballygunj By Election) তাঁকে প্রার্থী করেই কাস্তে-হাতুড়ি-তারায় শান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলিমুদ্দিন।
সায়রা শাহ হালিমের আরও একটি পরিচয় রয়েছে। তিনি বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহর ভাইঝি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর প্রোফাইল ভাল করে দেখলে বোঝা যাবে, বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে ভালভাবেই জড়িত সায়রা। একুশের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি সংযুক্ত মোর্চার হয়ে প্রচার করেছেন নিজের মতো করে। এখন দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াইয়ে বেশ জমজমাট হয়ে উঠতে চলেছে বালিগঞ্জের উপনির্বাচন।

