ডাক্তারি পড়ুয়া ছেলেকে হোস্টেলে থাকতে হবে মুসলিম ছাত্রের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবার দুঃখ প্রকাশ ঘিরে সমালোচনার ঝড় , বাংলা কী বিদ্বেষ প্রচারে ইউপি বিহারকেও ছাপিয়ে যাবে?
বাংলার জনরব ডেস্ক : ছেলে এমবিবিএস পড়ার সুযোগ পেয়েছেন এতে বাবা খুব খুশি হলেও কিন্তু ছেলে হোস্টেলে থাকতে হবে এক মুসলিম পড়ুয়ার সঙ্গে এতেই বাবা গভীর দুঃখ পেয়েছেন। আর এই দুঃখ তিনি শেয়ার করেছেন সোশ্যাল মিডিয়া। এবার তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর সমালোচনা। অবশ্য ওই ছাত্রের বাবা শুধু দুঃখ প্রকাশ করেই শেষ করেন নি, আল আমীন মিশনের পড়ুয়ারা কিভাবে শয়ে শয়ে ডাক্তার হচ্ছেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।
আর এই নিয়েই চিকিৎসক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও তৃণমূলের চিকিৎসক সংগঠনের পক্ষে এখনো এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ডা. কৌশিক চাকি জানিয়েছেন, এমন ঘটনাকে লজ্জাজনক বললেও কম বলা হয়। যিনি এহেন মন্তব্য করছেন তাঁর ছেলে চিকিৎসার মতো এক সম্মাজনক পেশায় আসতে চলেছেন। যে পেশার মূল শর্তই হল ধর্ম, জাত, বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের চিকিৎসা করতে হবে। সেখানে এ কী রকম মানসিকতা?

২ মার্চ থেকে এসএসকেএম এমবিবিএস ( MBBS) প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই সোশ্যাল সাইটে উষ্মা প্রকাশ করে হবু ডাক্তারে লেখেন, “প্রতি রুমে দু’জন করে ছাত্র। অত্যন্ত অস্বস্তিকর বিষয় আমার ছেলের রুমমেট একজন মুসলিম। আপাতত কিছুদিন এই রুমমেটের সঙ্গেই ওকে থাকতে হবে।’
এখানেই শেষ নয়, কতদিন ছেলেকে ওই মুসলিম ছেলের সঙ্গে থাকতে হবে? হোস্টেল ইনচার্জকে এমন প্রশ্ন করেছেন ওই অভিভাবক। এও জানিয়েছেন, দ্রুত যেন তাঁর ছেলের ঘর বদলে দেওয়া হয়।
এই প্রসঙ্গে AIDSO মেডিক্যাল ইউনিটের আহ্বায়ক ডা. শামস মুসাফির জানিয়েছেন, বিদ্বেষমূলক এই পোস্ট ঘিরে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ব্যাপার। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন ওই ছাত্র (Student)।
যদিও ওই ছাত্রের বাবার পোস্ট ঘিরে রাজ্য জুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এই বাংলা কী এবার বিদ্বেষ প্রচারে ইউপি বিহারকে ছাপিয়ে যাবে ?

