মাধ্যমিকের আগে অনুসন্ধানের উদ্যোগ : সর্বস্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে শুরু হলো অনলাইনে আরও একবার আট দিনের অনুশীলন পর্ব
গৌরাঙ্গ সরখেলের প্রতিবেদন : অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়াতে গত এক বছর বিভিন্ন রকমের উদ্যোগ-কর্মসূচি গ্রহণ করে চলেছে অনুসন্ধান কলকাতা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সাত মার্চ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। তাই কিশোরমতি ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনে বড় পরীক্ষার আগে আরও একবার পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছেন প্রাজ্ঞ শিক্ষকেরা। অতিমারির দুঃসহ যন্ত্রণায় দু বছরে যারা ঠিকমতো করে স্বাভাবিক পড়াশোনা করার সুযোগ পায়নি, নানারকম প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে কাটাতে হয়েছে তাদেরকে। তাই, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও অনুশীলন দিতে এবারের আট দিনব্যাপী এই কর্মসূচি, জানালেন বিশিষ্ট শিক্ষক নায়ীমুল হক। তিনি বললেন সর্বস্তরের মাধ্যমিক পড়ুয়াদের জন্য ভার্চুয়াল মোডে এই আয়োজন, চেষ্টা চলছে অন্যভাবেও বিশেষ করে প্রিন্ট মিডিয়ার সাহায্য নিয়ে তাদের পাশে কীভাবে দাঁড়ানো যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা। এবারের ‘ভিশন-২ মাধ্যমিক ২০২২’ পরিকল্পনায় মাধ্যমিক পরীক্ষার ক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে প্রতিদিনের বিষয়। সেখানে থাকছে এবছরের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং তা নিয়ে শেষ পর্যায়ের বিশেষ আলোচনা, এছাড়াও ৩৬ নম্বরে mcq সম্বলিত প্রশ্নের পরীক্ষা।
গতকাল আট ফেব্রুয়ারি ছিল ‘ভিশন-২ মাধ্যমিক 2022’ -এর সূচনা পর্ব । প্রথম দিনের সূচনা করেন অনুসন্ধান কলকাতার চিফ অ্যাডভাইজার বিজ্ঞানী মতিয়ার রহমান খান। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এই কর্মসূচি নিতে পেরে তিনি প্রথমে অভিবাদন জানান মাননীয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের, পরে আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে।


বিজ্ঞানী মতিয়ার রহমান খান
এদিনের আলোচ্য বিষয় ছিল বাংলা। ক্লাস পরিচালনা করেন কালীধন ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও গ্রন্থকার উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়। আগেও তিনি বেশ কয়েকবার কর্মশালা পরিচালনা করেছেন। তাই, তাঁর এদিনের ক্লাস নিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল লক্ষ করার মতো।
কেমন ছিল এদিনের বাংলা ক্লাস ক্লাস ? এ বিষয়ে উজ্জ্বলবাবুর কাছে জিজ্ঞেস করাতে তিনি তাঁর মিশ্র প্রতিক্রিয়ার কথা জানালেন। তিনি বললেন, ছেলে-মেয়েরা চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি পর্বে এসেও এখনও কিছু দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে। মূল সমস্যা হচ্ছে যে,ওরা বিষয়টা জানে অবশ্যই, কিন্তু প্রশ্নের ভাষাটা ঠিক রপ্ত করতে পারছে না।প্রশ্নে ব্যবহৃত শব্দগুলোর লক্ষ কী সেটা বুঝতে অসুবিধা বোধ করছে। প্রশ্নে কী চাওয়া হচ্ছে,সেইটা সবার আগে বুঝতে হবে। সেইদিকে লক্ষ রেখেই উত্তর সাজাতে হবে।নইলে উত্তরের প্রয়োজনীয় অংশ খুঁজে পাওয়া যাবে না।গোটা ব্যাপারটা ভাসা ভাসা হয়ে যাবে। সাহিত্য ও ভাষার বিষয়ে এই শব্দ-বোধ খুব দরকার। তিনি আরো বলেন,এখনও ওরা নিজেদের মতো করে শব্দবন্ধ খুঁজে পাচ্ছে না, ফলে মুখস্থ করা নোটসের শব্দগুলো অপ্রয়োজনীয় হয়েও উত্তরে ঢুকে পড়ছে।এইটা পুরো নম্বর পাবার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

বিশিষ্ট শিক্ষক নায়ীমুল হক
খুব বেশি করে টেস্ট পেপারের প্রশ্নগুলো সামনে রেখে একই বিষয়ে নানান প্রশ্নকর্তা যে বিচিত্র শব্দ ব্যাবহার করছেন,সেগুলো বুঝতে হবে। তবে তিনি জানান শিক্ষার্থীদের আগ্রহ-উদ্দীপনার অভাব ছিল না। সক্রিয়ভাবে অনেকেই উত্তর দেবার জন্যে এগিয়ে এসেছে। তিনি আরো বলেন
মুখোমুখি অন্তত একটা ঘণ্টা ওদের নিয়ে বসতে পারলে আরেকটু তৃপ্তি পাওয়া যেত।তাঁর অভিমত, এদের অনেকেই সম্ভাব্য ছাত্রছাত্রী যারা ১০০/১০০পাবার ক্ষমতা রাখে। অত্যন্ত আন্তরিক ছিল ওদের জিজ্ঞাসু মন।

