জেলা 

মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের ডাকা ভারত বনধকে সফল করতে গিয়ে মমতার বাংলায় গুলিতে মৃত্যু ২ , অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূল কংগ্রেস সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি-র বিরোধিতা করলেও তাদের সেই বিরোধিতার মধ্যে যে দ্বিচারিতা রয়েছে তার বহু প্রমাণ পাওয়া গেছে । এবার সেই প্রমাণ আবারও মিলল । সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জীর বিরুদ্ধে সমগ্র দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ড ।তৃণমূল এবং বন্‌ধ সমর্থনকারীদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে বুধবার মৃত্যু হল দু’জনের। অভিযোগ, শাসক দলের স্থানীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে বন্‌ধ সমর্থনকারীদের উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালায় কিছু দুষ্কৃতী। দু’জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আরও কয়েক জন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। তৃণমূল যদিও এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছে।নুর ইসলাম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, এ দিন সকাল ৭টা থেকে সাহেবনগর বাজারে অবস্থানে বসেন বন্‌ধ সমর্থনকারীরা। তাঁর অভিযোগ, সাড়ে আটটা নাগাদ তিন-চারটি গাড়ি এসে থামে বাজারের সামনে। ওই গাড়িগুলোতে ছিলেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা ও কর্মীরা।

সালাউদ্দিন শেখ নামে অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ওই তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা লাঠিসোটা হাতে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে বন্‌ধ সমর্থনকারীদের সরে যেতে বলেন। এর পরেই তৃণমূল কর্মী-সমর্থক এবং বন্‌ধ সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় বচসা এবং তা গড়ায় হাতাহাতিতে। অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যেই সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায় দু’পক্ষের মধ্যে। ইমদাদুল হক নামে অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ‘‘তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তাহিরুদ্দিন মণ্ডল নিজে ঘটনাস্থলে ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান। ওঁদের নির্দেশেই সঙ্গে থাকা তৃণমূলের লোকজন বাজারে থাকা জমায়েত লক্ষ্য করে বোমা মারতে থাকে। এলাকার মানুষ প্রতিরোধ করতেই তাঁরা ফিরে যাওয়ার পথে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। সেই গুলিতে মারা গিয়েছেন সানারুল বিশ্বাস (৬০) এবং সালাউদ্দিন শেখ (১৭)।” এলাকাবাসীর দাবি, আরও অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আবু তাহের খান এ দিনের ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘শারজিল ইমামের গ্রেফতারের প্রতিবাদে বন্‌ধের ডাক দিয়েছিল একটি অরাজনৈতিক মঞ্চ। কিন্তু সেখানে সিপিএম-কংগ্রেসের সঙ্গে মিম-পিএফআই-এর মতো মৌলবাদী শক্তি ঢুকে পড়ে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে।” তাঁর দাবি, ‘‘আমার দলের নেতৃত্ব কেন গুলি চালাতে যাবে? এ সব মিথ্যে অভিযোগ। পুলিশ তদন্ত করুক। কিছু দুষ্কৃতী গুলি চালিয়ে এলাকায় অশান্তি পাকাচ্ছে। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।’’

সাংসদ আবু তাহেরের ন্যূনতম জ্ঞান নেই যে দেশজুড়ে সিএএ বিরোধী বনধের ডাক দিয়েছে কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয় , বরং অরাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ড । মুসলিম পার্সোনাল বোর্ডের ডাকা বনধকে সফল করার জন্য যে কেউ রাস্তায় নামতে পারে তাকে গুলি করে মারতে হবে কেন ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর জবাব দেবেন কী ?

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment