কলকাতা 

‘ক্ষমতায় থাকতে মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তুলেছিলেন, এখন প্যান্ডেলে নামাচ্ছেন’, মমতাকে আক্রমণ বিজেপির

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক :  শুক্রবার রাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন রাস্তা দখল করে পালন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনায় পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। তারপর রাত থেকেই অভিষেকের বাড়ির সামনে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আজ, শনিবার পুলিশের ভূমিকাকে কাঠগড়ায় তুলে পথে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। সেই ঘটনা নিয়ে পালটা দিল বিজেপি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন, সেই অভিযোগ বিজেপির তরফে করা হয়েছে।

রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “ক্ষমতায় থাকতে মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তুলেছিলেন। এখন প্যান্ডেলে নামাচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নৈরাজ্যের সৃষ্টি করছেন।” রাস্তা আটকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মদিন পালন করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তাঁর আরও অভিযোগ, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনে তৃণমূলের দু’পক্ষের মধ্যে কেক কাটা নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত। কারা কেক কাটবে, সেই নিয়ে বিবাদ। ঘটনার জন্য দায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।”

কালীঘাটপন্থীদের বিক্ষোভের জেরে কালীঘাট চত্বরে প্রবল উত্তেজনা ছড়ায় এদিন। অভিযোগ, ঘটনায় দোকানদারদের ক্ষতি হচ্ছে। রাস্তা বন্ধ হওয়ার কারণে কালীপ্রতিমাও বিক্রেতারা ডেলিভারি করতে পারছেন না। হামলার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে মমতা ও অভিষেককেই বিঁধেছেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর দাবি, “ইন্ডি জোট বলে কিছুই হয়নি। তাই তাতে যোগ দেওয়ার প্রতিহিংসা অভিষেকের বাড়িতে হামলা হয়েছে তা বলা ভুল।”

গতকাল রাতের পর থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধায়ের বাড়ির সামনে ১৬৩ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। বাড়ির সামনে পুলিশ ব্যারিকেডও করা হয়েছে। এদিন সেই ব্যারিকেড তোলার দাবি করেন মমতা। হ্যান্ড মাইক নিয়ে নিজেই বেরিয়ে এসেছিলেন কালীঘাট তৃণমূল নেত্রী। পাশে ছিলেন অভিষেক। তিনি বলেন, “সবাইকে অনুরোধ করব, রাস্তা ফাঁকা করে দিন।” পাশাপাশি বিজেপি ও পুলিশকে একযোগে নিশানা করেন মমতা। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।

মমতা এদিন বলেন, “কাল রাতে ঝামেলা করিয়েছেন। মেয়েদের শাখা ভেঙেছে। মনে রাখবেন, এখানে অনেকে প্রতিমা কিনতে আসেন, যারা অভিষেকের জন্য আসছেন একটা সাইডে আসবেন। অন্যদিক খালি রাখুন। দয়া করে জমায়েত করবেন না। ঠাকুরের গাড়ি পাস করতে দিন। আমি যাচ্ছি না, আমি থাকছি। যারা অভিষেককে শুভেচ্ছা জানাতে আসছেন, তাঁদের স্বাগত। হামলা করার চেষ্টা করবেন না। একদিকে হামলা, আরেকদিকে মামলা। একদিন এসব করতে করতে বিজেপির হাতের পুতুল হয়ে চেয়ার হারাবেন।”


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ