বৃহস্পতিবারে শেয়ার বাজারে ব্যাপক ধস! এক নিমেষে ১০ লক্ষ কোটি টাকা খুইয়ে ফকির বাজার
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর শেয়ার বাজার খুলতে না খুলতেই হু-হু করে পড়তে থাকে স্টকের সূচক। দিনভর অব্যাহত থেকেছে সেই পরিস্থিতি। ফলে, ৭১,৫৯৩.২৪ পয়েন্টে পৌঁছে দৌড় থামায় সেনসেক্স। এ দিন ১,০৪৫.৪৬ পয়েন্টের পতন প্রত্যক্ষ করেছে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বিএসই)। শতাংশের নিরিখে যেটা ১.৪৪।
একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জেও (এনএসই)। এ দিন বাজার বন্ধের সময় ২২,২৩১.৮০ পয়েন্টে নেমে আসে নিফটি-৫০। এতে পতনের পরিমাণ ৩৭১.২৫ পয়েন্ট বা ১.৬৪ শতাংশ। এ ছাড়া, নিফটি স্মলক্যাপ-১০০ এবং নিফটি মিডক্যাপ ১০০-র সূচক কমেছে এক শতাংশ। লক্ষ্মীবারে কোনও সংস্থার স্টকই সবুজ রেখা স্পর্শ করতে পারেনি। একমাত্র ব্যতিক্রম তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিন সংস্থার শেয়ার।
স্টক বাজার রক্তাক্ত হওয়ার নেপথ্যে একাধিক কারণকে চিহ্নিত করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। প্রথমত, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে এ দিন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে চার শতাংশ বৃদ্ধি পায় অপরিশোধিত তেলের দর। ফলে ব্যারেল প্রতি ১০৪ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে সেটি। এর জেরে ভারতের বিদেশি মুদ্রাভাণ্ডারের উপর বাড়ছে চাপ। আর তাতে শেয়ারের দুনিয়া যে মারাত্মক ভাবে প্রভাবিত হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
বম্বে এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের অন্যতম বড় শক্তি হল প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ। কিন্তু, গত কয়েক মাস ধরে ভারতের থেকে মুখ ফিরিয়ে রয়েছেন সেই বিনিয়োগকারীরা। এদিনও তার ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। লক্ষ্মীবারে লাগাতার স্টক বিক্রি করে ৬,১০০ কোটি ডলার তুলে নিতে দেখা গিয়েছে তাঁদের। ফলে নিম্নমুখী হয়ে সেনসেক্স ও নিফটি।
তৃতীয় কারণ হিসাবে অবশ্যই আসবে ভারতীয় রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের (আরবিআই) রেপো রেট বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত। বুধবার, ৭ অক্টোবর ২৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৫.৫ শতাংশে পৌঁছয় সেটি। এতে মহার্ঘ হচ্ছে ঋণের কিস্তি। বাড়তে পারে ব্যাঙ্ক ও ডাকঘরের প্রথাগত বিনিয়োগের সুদ। ফলে স্টক কেনায় উৎসাহ হারিয়েছেন খুচরো লগ্নিকারীদের একাংশ।
সবশেষে বলতে হবে আদানি গোষ্ঠীর শেয়ার পতনের কথা। ভারতীয় শেয়ার বাজারের বড় সংস্থাগুলির মধ্যে যারা অন্যতম। এদিন নিফটি-৫০তে প্রায় ছ’শতাংশ হ্রাস পায় আদানি এন্টারপ্রাইজের স্টকের দর। পাশাপাশি, আদানি গ্রিন এনার্জির শেয়ারে ৭.৫৪ শতাংশের পতন দেখতে পাওয়া গিয়েছে।

