কলকাতা 

নবাব-কন্যা মতি বিবির ভিটেতেই আজ মতিঝিলের দুর্গোৎসব, ইতিহাস আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধন দমদমে

শেয়ার করুন

এস রোজলিন: কলকাতা: ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে আসা এক নাম মতি বিবি। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার সম্পর্কিত বোন। ধর্মপ্রাণ মুসলিম পরিবারের একমাত্র মহিলা সদস্য হয়েও যিনি বিভিন্ন ভাষায় শিক্ষিত ছিলেন এবং অন্য ধর্মের প্রতি গভীর সম্মান রেখে কাজ করতেন।

১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর তিনি গঙ্গার কাছাকাছি এক মনোরম গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন। তাঁর পাণ্ডিত্য ও দার্শনিক চিন্তা-ভাবনায় মুগ্ধ হয়েছিলেন স্বয়ং রবার্ট ক্লাইভ। তিনিই মতি বিবির বাড়ির আমূল সংস্কার করেন। পরবর্তীতে সেখানেই তৈরি করেন এক বিশাল দুর্গ এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে দুর্গের চারপাশে খনন করেন গভীর পরিখা।

বর্তমানে সেই দুর্গই দমদম এলাকায় *ক্লাইভ হাউস* নামে পরিচিত, আর সেই গভীর খালটি আজকের *মতিঝিল*।

ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড আরউইনের সময় মতিঝিল এলাকা হাতবদল হয়ে পাকাপাকিভাবে চলে যায় ক্যালকাটা সুবার্বান কো-অপারেটিভ কলোনি লিমিটেডের কাছে। মতি বিবির সেই বাড়ির প্রাঙ্গণেই পরবর্তীতে তৈরি হয় দুর্গা মণ্ডপ। বিশিষ্ট শিক্ষা ও সমাজকর্মী করুণা কিশোর গুপ্তের নামে সেখানে গড়ে ওঠে কৃষ্ণ কুমার হিন্দু অ্যাকাডেমি। আজ সেই ইতিহাসের প্রাঙ্গণেই অনুষ্ঠিত হয় *মতিঝিল সর্বজনীন দুর্গোৎসব*।

পুজো কমিটির সভাপতি সুজিত কুমার দেব জানান, “এই এলাকা উচ্চশিক্ষিত মানুষের বাস। এখানকার পুজোর একটা ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। সেই ঐতিহ্য ও গুরুত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই প্রতি বছর আমাদের পুজোর আয়োজন করা হয়।” তিনি আরও জানান, এবছরও পুজোর সঙ্গে থাকছে সমাজকল্যাণমূলক কাজ। মহালয়ার দিনে দরিদ্রদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হবে। প্রতিমা সেজে উঠবে নদীয়ার শান্তিপুরের বিখ্যাত মৃৎশিল্পী প্রদীপ পালের হাতে তৈরি মাটির সাজে। পঞ্চমীর সন্ধ্যায় আদ্যাপীঠ মন্দিরের মুরালভাইয়ের হাত ধরে উদ্বোধন হবে পুজোর। এরপর প্রতিদিন থাকবে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নজরকাড়া আলোকসজ্জা। স্বাভাবিকভাবেই প্রতি বছরের মতো এবারও মতিঝিলের এই ঐতিহ্যবাহী পুজোয় মানুষের ঢল নামবে বলেই আশা উদ্যোক্তাদের।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ