জেলা 

ঐতিহ্যের ১৬১ বছর: সুর ও সংস্কৃতিতে মেতে উঠল হরিনাভি দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ অ্যাংলো সংস্কৃত উচ্চ বিদ্যালয়

শেয়ার করুন

নায়ীমুল হক, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের অন্যতম ধাত্রীভূমি এবং পণ্ডিত দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ মহাশয় প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হরিনাভি দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ অ্যাংলো সংস্কৃত উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৬১-তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সাড়ম্বরে পালিত হল। মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনভর বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই গৌরবোজ্জ্বল দিনটি উদ্‌যাপন করা হয়।

এদিনের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সকাল থেকে শুরু করে সারাদিন ধরে চলে নাচ, গান, নাটক এবং আবৃত্তি। তবে কেবল বিনোদন নয়, প্রতিটি পরিবেশনার ফাঁকে ফাঁকে বারবার ফিরে এসেছে এই বিদ্যালয়ের দীর্ঘ ও গৌরবময় ইতিহাসের অনুরণন। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের হাত ধরে মঞ্চে জীবন্ত হয়ে উঠেছিল বিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্য।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত উৎসাহী ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অসংখ্য অভিভাবকদের সামনে বিদ্যালয়ের সেই মহিমান্বিত ইতিহাস আরও একবার স্মরণ করা হয়। বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিক্রমজিৎ মন্ডল। তিনি বলেন, এই বিদ্যাপীঠ কেবল একটি স্কুল নয়, বরং বহু মণীষীর পদধূলিতে ধন্য এক পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রী, মনীষী চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য, জ্ঞানচন্দ্র ভট্টাচার্য, কালীকৃষ্ণ ভট্টাচার্য, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পিতা জানকীনাথ বসু, প্রখ্যাত বিপ্লবী মানবেন্দ্রনাথ রায় (এম. এন. রায়), কালজয়ী কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কিংবদন্তি সুরকার সলিল চৌধুরীর মতো প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্বদের স্মৃতি ও পদস্পর্শে ধন্য এই বিদ্যালয়ের ইতিহাস। এদিন অনুষ্ঠান সঞ্চালনার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষিকা সর্বানী দাস ও শিক্ষক জহরলাল নাইয়া।

প্রতিষ্ঠা দিবসের এই অনুষ্ঠান আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে, হরিনাভি দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ অ্যাংলো সংস্কৃত উচ্চ বিদ্যালয় কেবল পঠন-পাঠনেই নয়, বরং সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রেও এক মজবুত স্তম্ভ। বিদ্যালয়ের এই ঐতিহ্য আগামী দিনেও অক্ষুণ্ণ থাকবে, এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন উপস্থিত সকলে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ