কলকাতা 

দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষে উত্তাল যাদবপুর!

শেয়ার করুন

দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষে বুধবার রাতে ফের উত্তেজনা ছড়াল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্র সংগঠন সূত্রে খবর, ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করেই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত বেশ কয়েকজন।

এবিভিপির অভিযোগ, সাধারণ সভার নামে ডেকে পরিকল্পিত ভাবে এসএফআই এবং ডিএসও-ডিএসএফ হামলা করেছে। আরও অভিযোগ, আক্রমণ করা হয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এবিভিপি সভাপতি নিখিল রায়ের উপরেও। বর্তমানে তিনি গুরুতর অবস্থায় কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। ফেটসুর অভিযোগ, বহিরাগত নিয়ে এসে হামলা চালিয়েছে এবিভিপি ও এনএসএফ। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, দুই পক্ষের একাধিক আহত ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এবিভিপির কেন্দ্রীয় কর্মসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী বলেন, ‘‘দলিত প্রেমের কথা বলা বাম, অতিবাম ও দিমাগি নকশালেরা দলিত শিক্ষার্থীদের উপরে আক্রমণ চালিয়ে তাঁদের বলে দলিতদের বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার অধিকার নেই।’’ তাঁর আরও দাবি, এবিভিপির ছাত্রনেতা নিখিল দাসের উপরে হামলা চালিয়ে তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়েছে। শুভব্রত জানাচ্ছেন, বেশ কয়েকজনের নামে এফআইআর করা হচ্ছে। এ দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘‘যাদবপুরে গণতান্ত্রিক ভাবে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে।’’

দর্শন বিভাগের ছাত্র তথা রেভোলিউশনারি স্টুডেন্টস ফ্রন্টের সদস্য অভিনব দাস বলেন, ‘‘ফেটসুর সাধারণ সভায় এবিভিপি ও এনএসএফ বেশ কয়েক জন বহিরাগতকে নিয়ে যায়। নিখিল দাস, দীপ্তিমান কর, সোমসূর্য বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বেশ কয়েক জন মারধর শুরু করে। মারের জেরে অস্মিত সিন্হা ও সায়ক মণ্ডল-সহ বেশ কয়েক জন আহত হয়।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, এবিভিপি ও এনএসএফ বেশ কয়েকজন বহিরাগত নিয়ে এসে ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের বাম মনোভাবাপন্ন পড়ুয়াদের তাড়া করে অরবিন্দ ভবনে আটকে রাখে। ভবনের বাইরে ও ক্যাম্পাসে জ্বালানো হয় আগুন। মারধর করার পাশাপাশি গণপিটুনির চেষ্টা করা হচ্ছিল ও ইট-পাটকেল ছোড়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ। বামেদের তরফে দাবি, এবিভিপি-র সমর্থকেরা মেইন গেট ও এক নম্বর, চার নম্বর গেট ভেঙে ক্যাম্পাসের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছে। অভিনব অভিযোগ করেন, বুধবার মন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত-সহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এসেছিলেন। সেই সময় থেকেই ‘রেইকি’ করা হচ্ছিল। তাঁর দাবি, ‘এই ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত।’ এবিভিপির পাল্টা দাবি, থানার বাইরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে কিন্তু ক্যাম্পাসের ভিতরে হামলা বা আগুন লাগানোর অভিযোগ মিথ্যে। এবিভিপি জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।

বুধবারের ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ২০ অগস্ট ধিক্কার দিবসের ডাক দিয়ে ডিএসও-র রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘‘এবিভিপি ও আরএসএসের একাংশ পতাকা ছিঁড়ে আগুন লাগিয়ে, গালিগালাজ করে ক্যাম্পাস দখল করতে চেয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলনের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধ্বংস করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি ও আরএসএস।’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ