চাপের মুখে সিদ্ধান্ত বদল! জন গণনার কাজে যুক্ত শিক্ষকরা পাবেন অন ডিউটি!
শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে জনগণনার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদে অন ডিউটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা দফতর। গত তেসরা আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে সরকার জানিয়েছিল ক্লাসের পরে বা ছুটির দিনে শিক্ষকরা জনগণনার কাজ করতে পারবেন। পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটিয়ে জনগণনার কাজ করতে পারবে না শিক্ষকরা। এই বিজ্ঞপ্তি জারি করার পর শিক্ষক মহলে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা যায়। বুধবার সেই বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
নতুন প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ফলে শিক্ষকেরাও জনগণনার কাজ ‘অন ডিউটি’ হিসাবেই করতে পারবেন। যদিও দফতরের তরফে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরে আবেদন করা হয়েছে শিক্ষকদের এমন ভাবে ব্যবহার করতে যেন পড়ুয়াস্বার্থ কোনও ভাবেই বিঘ্নিত না হয়। এই নির্দেশিকার পর শিক্ষকদের একাংশ মনে করছেন এটি তাঁদের জয়। কিন্তু পড়ুয়াদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে কী ভাবে জনগণনার কাজ করা হবে, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
গত বছর নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ (এসআইএর)। টানা চার মাস সে কাজ সামলেছেন শিক্ষকেরা। স্কুলের পঠনপাঠনে প্রভাবতো পড়েই ছিল পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছিলেন, প্রস্তুতিই নিতে পারেননি তাঁরা।
তার পর শুরু হয় বিধানসভা নির্বাচন। সেখানেও কোনও কোনও শিক্ষককে ভোটকর্মী হিসাবে কাজ করতে হয়েছে, কোনও কোনও শিক্ষককে বিএলও হিসাবে। ভোটপর্ব শেষ হতে না হতেই, চার মাসের মধ্যেই শুরু হয়েছে জনগণনার কাজের প্রশিক্ষণ। অগস্টের শুরু থেকেই চলছে জনগণনার কাজ। অভিযোগ, কোনও কোনও স্কুলে ৯০ শতাংশের বেশি শিক্ষককে জনগণনার কাজে যুক্ত করা হয়েছে।
এই নির্দেশ আসার পরেই শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। ক্লাস করার পরে কী ভাবে ফের কাজ করা সম্ভব তাই নিয়ে চর্চা শুরু হয়। জনগণনার কাজকে ‘অন ডিউটি’ হিসাবে বিবেচনা করার দাবি করতে থাকেন শিক্ষকেরা। কিন্তু তার পরও দফতর থেকে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। বিভিন্ন পুরসভা থেকে অবশ্য শিক্ষকদের ‘অন ডিউটি’ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এক দিকে দফতরের নির্দেশ অন্য দিকে পুরসভার ‘অন ডিউটি’ নির্দেশের পর ধোঁয়াশা তৈরি হয়।
যদিও ইতিমধ্যেই শিক্ষকেরা ক্লাসের সময়েই ‘অন ডিউটি’ হিসাবেই জনগণনার কাজ শুরু করে দিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে অনেকেই মনে করছিলেন, এতে দফতরের নির্দেশ অমান্য করা হচ্ছে। এ বার সেই বাধ্যবাধকতা থেকে শিক্ষকদের মুক্ত করল দফতর। কিন্তু তার সঙ্গেও দফতরের তরফে স্বরাষ্ট্র দফতরে আবেদন করা হয়েছে যেন পঠনপাঠনে যেন কোনও প্রভাব না পড়ে।
গত সোমবার স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছিলেন, শিক্ষকেরা যথেষ্ট দক্ষ, তাঁরা নিজেদের মতো করে সামলে নেবেন। কিন্তু বাস্তব বলছে, শিক্ষকের অভাবে বহু ক্লাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্লাস করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তার মধ্যে দফতর পুরনো নির্দেশ প্রত্যাহার করল।
সেনসাস কর্মী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘এক দিকে সেন্সাস কর্মীদের অনড় মনোভাব, অন-ডিউটি না দিলে সেন্সাসের কাজ করা হবে না আর শিক্ষক সংগঠনগুলির লাগাতার চাপে অবশেষে শিক্ষা দফতর মাথা নোয়াতে বাধ্য হল। এটা সেন্সাস কর্মী ঐক্য মঞ্চ ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর আন্দোলনের জয়।’’
তবে এ বিষয়ে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘‘আমরা স্কুল শিক্ষামন্ত্রীর কাছে দাবি করেছিলাম, শিক্ষকদের এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। জোর করে চাপিয়ে দিলে কাজের দিনগুলি অন-ডিউটি দিতেই হবে। তিনি দাবিটি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।” কিংকরের দাবি, আগের নির্দেশিকা বাতিল করে নতুন নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। অথচ অস্পষ্টতা থেকেই গিয়েছে। তাঁরা নির্দিষ্ট কাজের দিনগুলিতে অন-ডিউটি চাইছেন।

