প্রচ্ছদ 

ডেভিডের জন্যই হুমায়ুন দল ছেড়েছেন, মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের ক্ষতি হয়েছে স্বীকার করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, এতদিন পর বুঝলেন পাল্টা মন্তব্য হুমায়ুনের

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেস যখন ক্ষমতায় ছিল তখন কতগুলো ধান্দাবাজ চিটিংবাজ তোলাবাজ ব্যক্তিদেরকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্রয় দিয়েছিলেন তা জলের মতো পরিষ্কার। চৌঠা মে তৃণমূল কংগ্রেসের হেরে যাওয়ার পর এইসব ধান্দাবাজ চিটিংবাজ তোলাবাজরা, লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেছে যোগ দিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। এটা জলের মতো পরিষ্কার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত রাজনীতিবিদ যোগ্য রাজনীতিবিদদের মর্যাদা দেননি। বরং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো ধান্দাবাজদের গুরুত্ব দিতে গিয়ে আজ দল সংকটে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুখ থুবড়ে পড়েছে। একুশে জুলাই কলকাতায় যে সভা করার উদ্যোগ নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস তা কতটা সফল হবে তা যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

এদিকে এই সভাকে সফল করার জন্য জেলায় জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ রবিবার কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় মুশিদাবাদ জেলায় সভা করেন । ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভা থেকে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়া অপূর্ব (ডেভিড) সরকারকে তোপ দাগলেন কালীঘাট তৃণমূলের অন্যতম নেতা, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ডেভিডের জন্যই দল ছেড়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর জন্যই ‘আসল’ তৃণমূলের সংগঠন শেষ হয়ে গিয়েছে মুর্শিদাবাদে। এ কথা শুনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং নওদার বিধায়ক হুমায়ুন মুচকি হেসেছেন। তাঁর কটাক্ষ, বুঝতে অনেক দেরি করে ফেললেন যে কল্যাণেরা!

রবিবার কালীঘাট তৃণমূলের তরফে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভা হয়েছে। সেখানে অন্যতম বক্তা ছিলেন কল্যাণ। মাইক হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘মুর্শিদাবাদটাকে (তৃণমূলের সংগঠন) একাই নষ্ট করে দিয়ে চলে গেছে (অপূর্ব)।’’ ওই কথা শুনেই উপস্থিত নেতা-কর্মীরা করতালি দিতে শুরু করেন। কল্যাণ বলতে থাকেন, ‘‘হুমায়ুন কবীর গেল ওর জন্যই।’’ সকলে বলে ওঠেন, ‘ঠিক-ঠিক’। কল্যাণ বলেন, ‘‘হুমায়ুন কবীরকে আমাদের হারাতে হয়েছে এই ডেভিডের জন্য। ইউসুফ পাঠানও আমাকে বলত, ‘দাদা কিয়া করে, ইয়ে ডেভিড মেরা জান খা যাতা হ্যায়’। আরে ইউসুফ পাঠান, অব তেরা ডেভিড ভি তেরা সাথ সাথ চল গিয়া। অব তেরা দিল ভি খা জায়েগা!’’

অপূর্ব-সহ যে নেতারা ঋতব্রত তৃণমূল কিংবা সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের ‘বেইমান’, ‘গদ্দার’ বলে তোপ দেগেছেন কল্যাণ। তিনি বলেন, ‘‘ডেভিডের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ করেছিল হুমায়ুন। ডেভিডের জন্য হুমায়ুন চলে গিয়েছে। নির্লজ্জের মতো দলের সঙ্গে গদ্দারি করে ডেভিড গদ্দারদের দলে নাম লিখিয়েছে। মানুষ মনে রাখবে।’’

তৃণমূলে থাকার সময় হুমায়ুন এবং ডেভিডের গোষ্ঠীর কোন্দল শীর্ষ নেতৃত্বের কানে বার বার গিয়েছে। শেষমেশ বাবরি মসজিদ ইস্যু নিয়ে হুমায়ুনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেন মমতা-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। নিজের দল তৈরি করে হুমায়ুন এখন বিধায়ক। ডেভিড তৃণমূলের টিকিটে কান্দি থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। এখন তাঁকে ঋতব্রত তৃণমূল মুর্শিদাবাদ জেলার সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছে। কল্যাণের কথায়, ‘‘এরা তো আগে গদ্দারি করেনি। তাই আগে দল থেকে বার করার প্রশ্ন ওঠেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যেই খারাপ সময় এসেছে, তখনই এরা গদ্দারি শুরু করেছে। তাই এদের বিরুদ্ধে বলার সময় এসেছে।’’ প্রবীণ সাংসদের দাবি, মুর্শিদাবাদ জেলার ‘অরিজিনাল তৃণমূল’ যাঁরা, তাঁরা বেইমান তৃণমূল নেতাদের জায়গা দেবে না। মানুষের মনেও এঁদের জন্য জায়গা হবে না।

কল্যাণের আক্রমণের প্রেক্ষিতে ডেভিডের প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। তবে হুমায়ুন বলেন, ‘‘দীর্ঘ তিন বছর ধরে আমি অভিযোগ জানিয়ে গিয়েছি। এরা যে কত বড় দুর্নীতিপরায়ণ এবং দলের জন্য কতটা ক্ষতিকর, সেটা আমার তৎকালীন দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বারবার বলেছি। যারা তখন ‘দিদি-দিদি’ করত, আজ তারা হারিয়ে গেল। তবে অনেক দেরি হয়ে গেছে। এ সব বিষয়ে আক্ষেপ করে আর কোনও লাভ নেই।’’ হুমায়ুনের সংযোজন, ‘‘তৃণমূল আজ আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। আর বেশি কথা বলব না।’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ