প্রচ্ছদ 

কলকাতা পুরসভার পেনশনভোগী কর্মীদের কাছে সুখবর ৫০ শতাংশ বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালো সরকার

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : কলকাতা পৌরসভার কর্মীরা যারা পেনশন পান কিংবা ফ্যামিলি পেনসনভোগী তাদের ৫০ শতাংশ বকেয়া ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা দ্রুত দিয়ে দেয়া হবে বলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ব্যাঙ্কগুলির কাছে অতীতে পেনশন দেওয়ার সম্পূর্ণ তথ্য না থাকায় কলকাতা পুরসভা এলাকার পেনশনারদের ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের রোপা (রোপা ২০০৯) মেয়াদের বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ আটকে ছিল। সেই জট কাটানো এবং বয়স্ক মানুষদের আর্থিক স্বস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকার অন্তর্বর্তিকালীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ব্যাঙ্কের তরফ থেকে সম্পূর্ণ তথ্য যাচাই হয়ে আসার আগেই, আনুমানিক মোট বকেয়া ডিআর-এর ৫০ শতাংশ অর্থ এখনই সংশ্লিষ্ট পেনশনারদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আনুমানিক বকেয়ার হিসাব করা হবে অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (এজি)-এর দেওয়া তথ্য এবং অল ইন্ডিয়া কনজ়িউমার প্রাইস ইনডেক্স (এআইসিপিআই)-এর ভিত্তিতে।

একই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ বা বাকি বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ মেটানোর কাজও দ্রুত শুরু হবে। এর জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ের পেনশনের সমস্ত পুরনো নথিপত্র দ্রুত যাচাই করে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা দেওয়ার নিয়মাবলি ও প্রক্রিয়া পরবর্তী কালে আলাদা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাজ্য সরকার স্পষ্ট করে জানিয়ে দেবে। সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপে কলকাতার হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবার বিশেষ ভাবে উপকৃত হবেন।

এ বিষয়ে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘নবান্ন থেকে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাতে শুধু কেএমসি এলাকার ব্যাঙ্ক থেকে যাঁরা পেনশন পান, তাঁদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাকিদের তা হলে কী হবে। তা ছাড়া গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদের কথা সরকার এড়িয়ে যাচ্ছে কেন। তারা কি সরকারের কাছে সবসময় দুয়োরানি হয়েই থেকে যাবে?’’

এ প্রসঙ্গে সরকারি কর্মচারী পরিষদের রাজ্য সভাপতি দেবাশিস শীল বলেন, ‘‘২০০৮ সাল থেকে যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁদের বকেয়ার অর্ধেক অর্থাৎ ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে। অথচ কলকাতা পুরসভার বাইরে যাঁরা ট্রেজ়ারি থেকে পেনশন পান, তাঁদের ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের পুরো টাকাটাই দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ সালের পর যাঁরা চাকরিতে ছিলেন এবং মাঝপথে অবসরে গিয়েছেন, তাঁদের ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৫০ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে এই অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা আর্থিক ভাবে অনেক কম টাকা পাচ্ছেন এবং অন্যদের তুলনায় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এই বৈষম্য দূর করতে এবং ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের পুরো টাকাটা যেন দেওয়া হয়, সেই দাবিতে খুব শীঘ্রই অর্থসচিবের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে।’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ