বারুইপুরে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসনের কোনও শিথিলতা সহ্য করা হবে না : শুভেন্দু অধিকারী
বাংলার জনরব ডেস্ক : বারুইপুরে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশ-প্রশাসনের কোনও শিথিলতা সহ্য করা হবে না। এসপি অফিসে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘‘আমাদের লোকের যদি ওই সময়ের মধ্যে এক শতাংশও শিথিলতা থাকে, তবে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।’’ কী কী ঘটেছে, তদন্তের গতিপ্রকৃতি, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার দুপুরে বারুইপুরের এসপি অফিসে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। শুধু তারা নয়, কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পর গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই যুবক নির্দোষ ছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘ওই যুবকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আমি সন্তুষ্ট।’’ পাশাপাশি এ-ও বলেন, ‘‘নির্যাতিতার পরিবার আমার উপর আস্থা রেখেছে, এটাই আমার প্রাপ্তি।’’
ঘটনার দিনই ফোনে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন শুভেন্দু। পরে একাধিক বার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমি রাজ্যের সব থানার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। রাজ্য পুলিশের কর্তাদের বলেছি, এই ধরনের ঘটনা আটকাতে হবে।’’ ঘটনার পর থেকেই পরিবার এবং স্থানীয়েরা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অভিযোগ, সময়মতো পদক্ষেপ করেনি পুলিশ। সেই নিয়ে আগেই অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি। জানিয়েছিলেন, পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একই ভাষায় পদক্ষেপের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘গোটা রাজ্যের সব থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে ব্যবস্থা নিতে হবে।’’
শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমি সব খতিয়ে দেখেছি। আগের দিন রাতে মিসিং ডায়েরি হয়েছিল। তার পরে কী কী হয়েছে, সব জেনেছি। সরকার কী কাজ করল, তা আপনারা জানতে পারবেন। এক সপ্তাহ পর আমি আবার আসব। নির্যাতিতা এবং গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করব। এই ঘটনায় সরকারের থেকে কী সাহায্য আশা করছে বা ক্ষতিপূরণের বিষয় আমরা ওই দুই পরিবারের উপর ছেড়ে দিয়েছিলাম। তারা আমাকে কিছু কিছু বিষয় জানিয়েছে।’’ সূর্যপুরে একটা পুলিশ আউটপোস্টের দাবি উঠেছে। সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘‘অবিলম্বে আউটপোস্ট তৈরির কথা বলেছি। প্রয়োজনে বাড়ি ভাড়া করে আউটপোস্ট করতে হবে। এক সপ্তাহ পর আমি আসব যখন, তখন ওই আউটপোস্ট উদ্বোধন করব।’’
শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল ওই কিশোরী। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কিশোরী ওই দিন বিকেলে খাবার কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। তার পর থেকে তার খোঁজ মেলেনি। রবিবার সকালে বাড়ির অদূরে একটি পুকুরে ওই কিশোরীর দেহ মেলে। তার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। পথ অবরোধ থেকে রেল অবরোধ হয়। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর, রেললাইন উপড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘‘ভিডিয়ো দেখে ২০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না।’’ একই সঙ্গে এই ঘটনায় যাঁরা উস্কানি দিয়েছেন, তাঁদেরও শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর মতে, ভাঙচুর চালিয়ে যে অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছিল, তার নেপথ্যে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে। নাম না-করে তৃণমূল এবং সিপিএম-কে নিশানা করেছেন শুভেন্দু।
তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি, যারা তাণ্ডব চালিয়েছে, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না।’’ বারুইপুর থেকে তিনি হাসপাতালে যাবেন। শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমাদের তিন জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের দেখতে যাব।’’

