আমেরিকার সভ্যতা সম্মান ও ইতিহাস বলে কিছু নেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিতর্কিত মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া ইরানের! রহস্য?
প্রাক্তন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিয়েও ইরানকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ইতিহাস মনে করিয়ে আমেরিকাকে পালটা তেহরানের। ২৫০তম মার্কিন স্বাধীনতা দিবসের পরদিনই ইরান জানিয়ে দিল, আমেরিকার নিজস্ব সভ্যতা বা সম্মান কিছুই নেই। উল্লেখ্য, যুদ্ধ চলাকালীন ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, গোটা একটা সভ্যতা মুছে ফেলবেন। সেই মন্তব্যকেই এবার হাতিয়ার করল ইরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয় খামেনেইয়ের। তার ১২৬ দিন পর তেহরানে তাঁর অন্ত্যেষ্টির আয়োজন করেছে ইরান। তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের কার্যক্রম চলছে। উপস্থিত রয়েছেন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব-সহ বহু মানুষ। আগামী ৯ জুলাই সমাহিত করা হবে খামেনেইকে। সেই নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বরা সবাই ওখানেই রয়েছেন। একটা গুলিতেই তাদের সবাইকে খতম করা সম্ভব। কিন্তু আমরা তা করব না। কারণ, তাহলে আলোচনার জন্য আর কাউকে পাওয়া যাবে না।”
এই মন্তব্যে স্বভাবতই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। একদিকে শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করতে ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসছে আমেরিকা, অন্যদিকে মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানের মুখেই এহেন মন্তব্য! প্রতিবাদ জানিয়ে আর্মেনিয়ার ইরানি দূতাবাসের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, ‘মানুষকে হত্যা করা যায় কিন্তু তাঁর আদর্শ বেঁচে থাকে। আসলে আপনারা একটা পারফিউমের বোতল ভেঙে ফেলেছেন যার সুগন্ধ ছড়িয়েছে সর্বত্র। তবে এগুলো তো আপনারা বুঝবেন না। কারণ সভ্যতা, ইতিহাস, সম্মান-কোনওটাই আপনাদের নেই।’
প্রসঙ্গত, খামেনেইয়ের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শনিবার তেহরান থেকে শুরু হয়েছে। এরপর কোম, ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহর পেরিয়ে মাশহাদে তা শেষ হবে। আগামী ৯ জুলাই অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সেখানেই প্রাক্তন নেতাকে সমাহিত করা হবে। অনুমান করা হচ্ছে, শেষ দিনে এখানে উপস্থিত হতে পারেন ২ কোটি মানুষ। সেই লক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতিও সেরে ফেলা হয়েছে। যাতায়াতের জন্য হাজার হাজার বাস, বিমান পরিষেবা, রান্নার ব্যবস্থা, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

