কলকাতা 

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ওপর অনাস্থা! প্রথম দফায় কাজ করা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের দ্বিতীয় দফায় নিয়োগ করার নির্দেশ কমিশনের! রহস্য?

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : রাজ্য সরকারের কর্মচারীদের উপর আস্তা নেই তাই শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের দ্বিতীয় বার কাজে পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফায় কাজ করেছেন এমন ১৭ হাজারের বেশি কর্মীকে দ্বিতীয় দফায় কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নিয়োগের কথা জানিয়েছে কমিশন। কোন জেলায় কত জন নিয়োগ করা হচ্ছে তা জানানো হয়েছে। ওই কর্মীরা প্রথম দফায় কোন জেলায় কাজ করেছেন, তার উল্লেখ রয়েছে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) নির্দেশিকা দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, প্রথম দফায় দায়িত্ব পালন করা কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের আবার দ্বিতীয় দফায় নিয়োগ করতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাঁদের নিয়োগপত্র দিতে বলা হয়েছে।

Advertisement

কমিশন জানিয়েছে, মোট ১৭ হাজার ২৭৬ জন কেন্দ্রীয় কর্মচারী, যাঁরা পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোটে কাজ করেছেন, তাঁদের অবিলম্বে জেলাভিত্তিক নিয়োগ করতে হবে দ্বিতীয় দফার ভোটে। প্রিসাইডিং অফিসার-সহ মোট চার ক্ষেত্রে ভোটকর্মীদের নিয়োগ করা হবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতেই নিয়োগ করা হচ্ছে ৬ হাজার ৬২০ জন।

তার পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। ওই জেলায় মোট ৫ হাজার ৬৮০ জনকে নিয়োগ করা হচ্ছে, যাঁরা প্রত্যেকেই প্রথম দফার ভোটে কাজ করেছেন। এ ছাড়াও নদিয়ায় নিয়োগ করা হচ্ছে ১,৭৪৫ জনকে। তাঁদের মধ্যে তেহট্ট বিধানসভাতেই বেশি। হাওড়ার ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রে ২২১ জনকে নিয়োগ করতে চলেছে কমিশন। হাওড়ার অন্যত্র ৫০৩ জনকে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ হাওড়ায় মোট ৭২৪ জনকে নিয়োগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, দক্ষিণ কলকাতায় ১, ১০৯ জন, হুগলিতে ৭১২ জন এবং পূর্ব বর্ধমানে ৬৮৬ জন ভোটকর্মীকে নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

কমিশনের এই নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোটকর্মী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল। তাঁর প্রশ্ন, কেন শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের নিয়োগের কথা বলল কমিশন। ভোটকর্মী সঙ্কট মেটাতে রাজ্য সরকারের কর্মচারীদেরও তো নিয়োগ করা যেত! রাজ্য সরকারের অনেক কর্মচারী রয়েছেন, যাঁরা এখনও ভোটের কোনও কাজ পাননি। তাঁদের নিয়োগ না-করে প্রথম দফার ভোটে কাজ করা কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের আনা হচ্ছে দ্বিতীয় দফার ভোটে। স্বপনের কথায়, ‘‘এই ধরনের ঘটনা আমরা এর আগে দেখিনি।’’ তবে তিনিও সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করেছেন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ