রাজ্যসভার দশ সংসদের মধ্যে সাতজন বিজেপিতে কী করবেন কেজরিওয়াল? কেন এমন হলো?
বাংলার জনরব ডেস্ক : অরবিন্দ কেজরিওয়ালে রাজনৈতিক জীবনকে শেষ হতে চলেছে তার গঠিত দল আম আদমি পার্টি কি শেষ হয়ে যাচ্ছে? কারণ এই দলের ১০ জন রাজ্যসভার সাংসদদের মধ্যে সাতজন যোগ দিয়েছে বিজেপিতে! রাঘব চাড্ডাকে অনেক আগেই রাজ্যসভার উপদল নেতার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন কেজরিওয়াল। আর স্বাভাবিকভাবে রাঘব যে বিজেপিতে যোগ দেবেন বা স্বাতী মালিয়াল যে বিজেপিতে যোগ দেবেন তা নিয়ে কোন সন্দেহ ছিল না। কিন্তু এদের সঙ্গে আরো পাঁচজন যোগ দেবেন অর্থাৎ মোট সাতজন যোগ দেবেন বিজেপিতে এটা কেউ ভাবতে পারেনি। এমনকি কেজরিওয়াল যার বাড়িতে গত শুক্রবার অর্থাৎ গতকাল পর্যন্ত যার বাড়িতে ছিলেন সেই অশোক মিত্তলও যে আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেবেন এটা অরবিন্দ কেজরিওয়াল কল্পনাও করেননি।
আর এতেই গভীর সংকটে পড়েছে আম আদমি পার্টি। পাঞ্জাব নির্বাচনের আগে এই দলটার অস্তিত্ব কি টিকে থাকবে সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। আসলে অরবিন্দ কেজরিওয়াল যেভাবে পেছনের দরজা থেকে বিজেপিকে সাহায্য করেছে তার প্রতিদান যে বিজেপি তাকে এভাবে দেবে। সেটা নিয়ে কোন সন্দেহ ছিল না। কারণ মনে রাখতে হবে ২০১৪ সালে মোদি সরকারের ক্ষমতায় আসার পেছনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালদের আন্দোলন যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল তা অস্বীকার করা যাবে না। আম আদমি পার্টি তৈরি হয়েছিল মূলত আরএসএসের উদ্যোগে আরএসএস ঘনিষ্ঠ অরবিন্দ কেজরিওয়াল নরেন্দ্র মোদী অমিত শাহের সমালোচনা করলেও তিনি মনে মনে চাইতেন দিল্লিতে অন্তত বিজেপি থাকুক কংগ্রেস না আসুক। বিরোধী দল হিসাবে তার এই যে দ্বিচারিতা সেটাই আম আদমি পার্টির কাছে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজ্যসভার ৭ সংসদ দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর কার্যত অরবিন্দ কেজরিওয়াল এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন। কেজরিওয়ালের ভবিষ্যৎ কী সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে?
অশোক, রাঘব, সন্দীপ ছাড়া শুক্রবার বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন স্বাতী মালিওয়াল, ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিংহ, রাজিন্দর গুপ্ত, বিক্রম সাহনি। এঁদের মধ্যে স্বাতীর সঙ্গে দলের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল ২০২৪ সালের মে মাসেই। কেজরীর এক ঘনিষ্ঠের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। তবে বাকিদের দলত্যাগ একরকম অপ্রত্যাশিত ছিল। রাজ্যসভায় আপের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ১০। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্য বিজেপি-তে চলে যাওয়ায় রাঘবদের দলত্যাগবিরোধী আইনের কোপে পড়তে হবে না। সূত্রের খবর, দলের অন্দরে বিরোধ মেটাতে শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংসদদের বৈঠকে ডেকেছিলেন কেজরী। কিন্তু সেই বৈঠক আর হয়ে ওঠেনি। তার আগেই সাংবাদিক বৈঠক করে রাঘবেরা দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করে দেন।

