দেশ 

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব খারিজ !

শেয়ার করুন

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদে আনা ইমপিচমেন্ট নোটিশ খারিজ করে দিল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণ। মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের আনা এই প্রস্তাবে কংগ্রেসসহ দেশের সমস্ত বিরোধী দলই স্বাক্ষর করেছিল দুই কক্ষের 193 জন সাংসদ এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করে লোকসভা ও রাজ্যসভার স্পিকারদের কাছে জমা দিয়েছিল। আর সে বিষয়ে সোমবার লোকসভা ও রাজ্যসভার পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হলো যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আনা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিতরকের অবকাশ আর থাকলো না বিরোধীদের কাছে।

বিরোধী দলগুলো জানত যে তারা এই ধরনের প্রস্তাব আনলেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানো সম্ভব হবে না। তবে এই ধরনের প্রস্তাব গৃহীত হলে অবশ্যই তা সংসদে আলোচনা হতো কিন্তু মোদি সরকার এই বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনার পক্ষপাতি নয় এই ঘটনা তা প্রমাণ করে দিল।।

Advertisement

গত ১২ মার্চ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছিল সংসদের দুই কক্ষে। কিন্তু সেই নোটিসটি গ্রহণ করা হয়েছে না কি তা বিবেচনাধীন রয়েছে, তা নিয়ে তিন সপ্তাহ কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষিত না হওয়ার প্রশ্ন উঠেছিল। প্রসঙ্গত, গত ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সংসদের দুই কক্ষের দলীয় সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, সেখানেই দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সাংসদদের নির্দেশ দেন, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করার।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একটি সাংবিধানিক পদ। সাংবিধানিক পদে কেউ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে গেলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। লোকসভা এবং রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ৪১ (মৌসম বেনজির নূর ইস্তফা দেওয়ার পরে) জন। ফলে সমমনোভাবাপন্ন দলগুলির (মূলত, বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শরিকদের) কাছে তৃণমূল সমর্থন চেয়েছিল। তাতে সাড়াও মিলেছিল। জ্ঞানেশকে অপসারণের প্রস্তাব সংক্রান্ত নোটিসে ১৯৩ জন বিরোধী সাংসদ (লোকসভার ১৩০, রাজ্যসভার ৬০) সই করেছিলেন। কিন্তু কোনও কক্ষেই তা বিতর্কের জন্য গৃহীত হল না।

শুধু সার্বিক পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ নয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে বিরোধী সাংসদেরা যে নোটিস দিয়েছিলেন, তাতে তাঁর বিরুদ্ধে আরও নানা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম, তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম। ছিল, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ। তা ছাড়া গত বছর নিয়োগ প্যানেলের বৈঠকে জ্ঞানেশের নামে আপত্তি জানিয়ে রাহুল যে ‘ডিসেন্ট নোট’ দিয়েছিলেন, তারও উল্লেখ ছিল নোটিসে। আনা হয়েছিল, ভোটে কারচুপিতে মদত দেওয়ার অভিযোগও। সেখানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছিল। লোকসভার স্পিকারের পাশাপাশি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছেও জমা দেওয়া হয়েছে ইমপিচমেন্ট নোটিস।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ