শুভেন্দুকে অস্বস্তিতে ফেলে দিঘার জগন্নাথ ধামে দিলীপ ঘোষ, স্বাগত জানালেন স্বয়ং মমতা ২০২৬-এর নির্বাচন জিতে নিল তৃণমূল!
বাংলার জনরব ডেস্ক : রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণ পত্রকে সম্মান জানিয়ে দীঘার জগন্নাথ ধাম পৌঁছে গেলেন রাজ্যের বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। যদিও এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ ছিল রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর তিনি কিন্তু এই অনুষ্ঠানে যাননি বা বয়কট করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার বেলা সওয়া তিনটে নাগাদ দিঘায় জগন্নাথধামের আনুষ্ঠানিক দ্বারোদ্ঘাটন করেছেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ সেই মন্দিরে পৌঁছোন দিলীপ।
মঙ্গলবার রাতেই দিলীপ জানিয়েছিলেন যে, বুধবার সময় পেলে তিনি দিঘার জগন্নাথধামে যাবেন। হাওড়ার শ্যামপুরে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও বুধবার তাঁর আমন্ত্রণ ছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘‘শ্যামপুরের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পরে যদি সময় পাই, তা হলে দিঘা যাব। মুখ্যসচিব চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’’ তবে শেষ পর্যন্ত সেই ‘সময় পাওয়া’ দিলীপের হয়ে উঠবে কি না, তা দুপুর পর্যন্তও স্পষ্ট ছিল না। শ্যামপুরের অনুষ্ঠান থেকে তিনি বেরোনোর পরে স্পষ্ট হয় যে তিনি দিঘা যাচ্ছেন।

রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতির কথায়, ‘‘অক্ষয়তৃতীয়ার দিন একটা শুভ দিন। এই দিনে আমরা পূজার্চনা, ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েই থাকি। এ রকম একটা দিনে দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন হচ্ছে। সেখানে আমাকে আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে। কেন যাব না?’’ মুখ্যমন্ত্রী মমতার এই কর্মকাণ্ডের মধ্যে ‘হিন্দু জাগরণে’র প্রয়াসও দেখছেন দিলীপ। তিনি বলেন, ‘‘অক্ষয়তৃতীয়ার দিনে হিন্দু জাগরণের অনেক কর্মসূচি থাকে। মন্দির প্রতিষ্ঠাও তো হিন্দু জাগরণেরই কাজ।’’ তার পরেই স্বভাবসিদ্ধ রসবোধে দিলীপের মন্তব্য, ‘‘ভগবান আমাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য সাড়ে তিনশো কিলোমিটার চলে এসেছেন। আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য দু’শো কিলোমিটার যেতে পারব না!’’
কাঁথিতে কেন থামলেন না? দিলীপ বললেন, ‘‘আমাকে তো সেখানে কেউ আমন্ত্রণ জানাননি। দিঘায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শ্যামপুরেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাই গিয়েছি।’’ দিলীপের যুক্তি, ‘‘অক্ষয় তৃতীয়ায় এ রকম অজস্র অনুষ্ঠান হচ্ছে। সব জায়গায় যাচ্ছি নাকি? যেখানে যেখানে আমন্ত্রণ পেয়েছি, সেখানেই যাচ্ছি।’’
রাতে দিঘাতেই থাকবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ। কারণ যাঁরা জগন্নাথধাম উদ্বোধনের আমন্ত্রিত হয়ে দিঘায় হাজির হয়েছিলেন, দিলীপ পৌঁছোনোর আগেই তাঁদের অধিকাংশ কলকাতার দিকে রওনা দিয়েছিলেন। দিলীপ নিজেও বলেন, ‘‘দিঘার দিকে যেতে যেতেই দেখছি অনেকের গাড়িই আমার পাশ দিয়ে কলকাতার দিকে ফিরছে। তাই পৌঁছে কার কার সঙ্গে দেখা হবে জানি না।’’ দিলীপের কথায়, ‘‘মন্দিরে যাওয়াটা প্রধান উদ্দেশ্য। আগে যাই। ভগবানকে প্রণাম করি। তার পর ঠিক করব থাকব কি না।’’
জগন্নাথধামে দিলীপের যাওয়া বা তাঁর মন্তব্য নিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি শুভেন্দু। তিনি বলেছেন, ‘‘কে কী করলেন, কে কী বললেন, তা নিয়ে আমি কিছু বলব না। আমি একজনেরই মন্তব্যের বা কার্যকলাপের বা মিথ্যাচারের জবাব দিই। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’’
বিরোধী দলনে তার বয়কট সত্ত্বেও দিলীপ ঘোষের এই যাত্রা অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে অনেকটাই অক্সিজেন যোগাবে। হিন্দু ভোট যে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে এই বার্তা অনেকটা কমে যাবে একই সঙ্গে এটা প্রমাণ হয়ে যাবে বিজেপি এবং তৃণমূল একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুষ্ঠানে দিলীপ ঘোষের এই যাওয়াটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের জয় কে অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলল। আর এক ঘরে হয়ে গেলেন শুভেন্দু অধিকার। কারণ মনে রাখবেন দিলীপ ঘোষ আরএসএসের প্রচারক থেকে বিজেপির নেতা সুতরাং এই রাজ্যে আরএসএস কাকে রাখতে চাইছেন দিলীপ ঘোষের চেয়ে ভালো কেউ জানেন না।

