কসবার তৃণমূল কাউন্সিলরের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত!
বিশেষ প্রতিনিধি : কসবায় তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের উপরে হামলার ঘটনায় কলকাতা পুলিশ এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ওই অভিযুক্তের নাম মোঃ ইকবাল। জানা গেছে মোহাম্মদ ইকবালকে গ্রেফতার করার পর তাকে লালবাজার নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেখানে তাকে জেরা করা হচ্ছে। গ্রেফতারের কিছুক্ষণ আগেই কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম রীতিমতো সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।
জানা যাচ্ছে, ধৃত যুবরাজ সিংয়ের বয়ানের ভিত্তিতে ইকবালের স্কেচ আঁকা হয়েছিল। সেই সূত্রে একাধিক এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে এদিন দুুুপুরে তাকে পাকড়াও করেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা দমন শাখার কর্তারা।

এদিন দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মাও। তখনও অবশ্য ইকবালের গ্রেফতারির খবর ছিল না। সিপি বলেন, “বিহার থেকে ৩ জন এসেছিল। একজন ট্যাক্সি চালকও ছিল। ২জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।”
কী কারণে ইকবাল কাউন্সিলরকে হত্যা করার জন্য বিহার থেকে সুপারি কিলার নিয়ে এসেছিল তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার নেপথ্যে আর কারও হাত রয়েছে কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে তাও।
শুক্রবার রাত ৮টা। কসবায় অ্যাক্রোপলিস মলের অদূরে নিজের বাড়ির বাইরে বসেছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। ৮টা নাগাদই তিনি তাঁর সঙ্গে থাকা দুই নিরাপত্তারক্ষীকে ছুটি দিয়ে দেন। তার ১০ মিনিট পরেই বাইকে করে হেলমেট পরিহিত দুই যুবক হাজির হয়। বাইক থেকে নেমে একজন একেবারে সুশান্তর বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার চেষ্টা করে।
তবে কোনও কারণে বন্দুক লক হয়ে যাওয়ায় দু’বার চেষ্টা করেও গুলি করতে ব্যর্থ হয় ওই যুবক। এরপরই তাকে পিছু ধাওয়া করে ধরে ফেলেন সুশান্ত-সহ অন্যরা।
পুলিশ সূত্রের খবর, জেরায় ধৃত যুবরাজ সিং জানিয়েছে, তারা ৩ জন ট্রেনে করে বিহার থেকে হাওড়ায় আসে। সেখান থেকে ট্যাক্সিতে করে খিদিরপুরে। সেখানে একটি বাড়িতে থাকার ব্য়বস্থা করা হয়েছিল। তিলজলায় তাদের সঙ্গে দেখা করে মহম্মদ ইকবাল। এই ইকবালই ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে খুনের কন্ট্রাক্ট দিয়েছিল বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছে ধৃত যুবরাজ।
যুবরাজের পাশাপাশি খুনের আগে অভিযুক্তরা যে ট্যাক্সিটি ব্যবহার করেছিল সেটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে ট্যাক্সি চালক মহম্মদকে।

