দেশ 

‘সামাজিক আর্থিক ক্ষেত্রে দেশের মানুষের প্রতি যে অন্যায় হয়েছে তার বিরুদ্ধে ন্যায় যাত্রা, আমরা জনতার মন কি বাত শুনতে চাই’ মণিপুরে বললেন রাহুল গান্ধী

শেয়ার করুন

সেখ ইবাদুল ইসলাম : দেশের সাধারণ মানুষের প্রতি সামাজিক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মোদি সরকারের আমলে যে অন্যায় হয়েছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ন্যায় যাত্রার শুরু করেছে কংগ্রেস। আজ রবিবার মনিপুর থেকে ন্যায় যাত্রা সূচনা করে এ কথাগুলি বললেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। কুয়াশার কারণে দিল্লি থেকে বিমান ছাড়তে দেরি হওয়ার জন্য মনিপুরে ভারত জোড়ো  ন্যায় যাত্রা শুরু করতে খানিকটা দেরি হয়ে যায়।

এই যাত্রার সূচনাকে কেন্দ্র করে মনিপুরে এক সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রথমেই রাহুল গান্ধী দেরি হওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন। তারপর দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার পাশাপাশি কেন মনিপুর থেকে ন্যায় যাত্রা কংগ্রেস শুরু করছে তারও ব্যাখ্যা দেন।

কেন মনিপুর থেকে যাত্রা : রাহুল গান্ধী মনিপুর থেকে কেন ন্যায় যাত্রার সূচনা করছেন তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন ,আমি ২৯ শে জুন ২০২৩ এই রাজ্যে এসেছিলাম দেখেছিলাম বিভেদের কাছে বিদ্বেষের কাছে এই রাজ্য আত্মসমর্পণ করেছে। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের প্রতিটা জায়গায় যেতে পারছেন। ভোটের জন্য প্রতিটা রাজ্যে যাচ্ছেন। কিন্তু মনিপুরের মানুষের কাছে একবারও আসার তাঁর সময় হয়নি। রাহুল এদিন বলেন, আমাদের দল কংগ্রেস দ্বিতীয়বার যাত্রা সূচনা করার আগে বৈঠকে বসেছিল। সেই বৈঠকে আমাদের নেতারা অনেক প্রস্তাব দিয়েছিলেন কেউ বলেছিলেন পশ্চিম থেকে যাত্রা শুরু হোক কেউ বলেছিলেন পূর্ব থেকে যাত্রা শুরু হোক। সবার বক্তব্য শোনার পর আমি বলেছিলাম মনিপুর থেকে যাত্রা শুরু হবে। কারণ আমরা সেই মনিপুর দেখতে চাই যে মনিপুর বিদ্বেষের মনিপুর হবে না যে মনিপুর বিদ্বেষ মুক্ত মনিপুর হবে। রাহুল এদিন বলেন, আমি ২০০৪ সাল থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি তারপরেই প্রথম আমি মনিপুরে দেখলাম মানুষের মধ্যে বিভেদের বিষয়টি তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এখান থেকেই শুরু হবে যাত্রা।

কেন ন্যায় যাত্রা : কেন এই যাত্রা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী সমবেত হাজার হাজার জনতার সামনে বলেন, সামাজিক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এবং আর্থিক ক্ষেত্রে যে অন্যায় হয়েছে বিগত ১০ বছর ধরে যেখানে বিকাশ স্তব্ধ হয়ে গেছে । শুধুমাত্র বিভেদের রাজনীতি শুরু হয়েছে, সেখানেই আমরা ন্যায়ের আহ্বান নিয়ে যাত্রা শুরু করছি। তিনি বলেন, দেশে বেকারত্ব বেড়েছে, দেশের আর্থিক অবস্থা তলানিতে ঠেকেছে, দেশের চাষীদের অবস্থা ভালো নেই ,দেশের কৃষকরা ভালো নেই ,দেশের সাধারণ মানুষ ভালো নেই। প্রধানমন্ত্রী বিজেপি আর আরএসএস এদেশে নাফরাতে রাজনীতি শুরু করেছেন। এই বার্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে আমরা পৌঁছাব। আমাদের ইচ্ছা ছিল পায়ে হেঁটে লক্ষ লক্ষ মানুষের কথা আমরা শুনবো। কিন্তু তা সম্ভব হলো না কারণ সামনে নির্বাচন। সেখানে অনেকটা সময় চলে যাবে, সেজন্যে এবার আমরা বাসে করে যাত্রা শুরু করেছি, কখনো বাসে যাব কখনো পায়ে হেটে যাব আপনাদের কাছে।

বিদ্বেষ মুক্ত সম্প্রীতির ভারত গড়ায় আমাদের লক্ষ্য : ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার সূচনা করে রাহুল গান্ধী বলেন, আমাদের লক্ষ্য খুব পরিষ্কার এই দেশকে বিজেপির ও আরএসএসের বিদ্বেষ থেকে রক্ষা করা। সম্প্রীতির বাতাবরণ গড়ে তোলা। জাতিতে জাতিতে ধর্মে ধর্মে বিভেদ বন্ধ করা। এমন এক ভারত গড়ে তুলবো যে ভারত হবে বিদ্বেষ মুক্ত সম্প্রীতির ভারত। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করবো।

আপনাদের মনকি বাত শুনতে চাই : আমরা আমাদের মনের কথা আপনাদের বলতে চাই না আমরা আপনাদের মনের কথা শুনতে চাই। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মনিপুরে দাঁড়িয়ে যখন বললেন আমাদের মনকে বাত নয় আপনাদের মন কি বাত শুনতে চাই তখন উপস্থিত হাজার হাজার জনতা করতালি দিয়ে রাহুলকে অভিনন্দন জানালেন। যে উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে রাহুল গান্ধী মণিপুর থেকে ভারত জড়ো ন্যায় যাত্রার সূচনা করলেন তা কি শেষ দিল্লির দরবার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবেন? সেটাই এখন কোটি কোটি টাকার প্রশ্ন।

তবু তো চেষ্টা করছেন রাহুল ভারতকে জুড়তে। রাহুল গান্ধী চেষ্টা করছেন বিদ্বেষ মুক্ত ভারত করতে। বিজেপি বিরোধী অন্যান্য দলগুলি, যদি রাহুলের সঙ্গে না থাকেন তাহলে কি সেটা সম্ভব হবে? নাকি রাহুলের জনপ্রিয়তাকে সম্বল করেই এদেশের মেকি ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলি রাজনীতি করতে চাইছে, সুযোগ বুঝে কখনো রাহুল কখনো মোদীর দিকে ঝুকবেন! এই মেকি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দলগুলির কাছ থেকে এদেশের সাধারণ জনতা যতটা দূরে থাকবেন ততটাই মঙ্গল।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ