কলকাতা 

দলের নতুন মুখপাত্রের তালিকা তৈরীর নির্দেশ, প্রকাশ্যে বুক খুললে দল থেকে ছেঁটে ফেলা হবে,দলীয় বৈঠকে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দলনেত্রী মমতার

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : দলের ভেতরের নেতাদের পরস্পর বাগবিতন্ডায় বারবার দলকে অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে। তাই এবার দলের লাগাম বেশ খানিকটা টেনে ধরলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিককালে তৃণমূল দলের সাংগঠনিক স্তরের সবটাই নিয়ন্ত্রণ করতেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বিশেষ করে মুখপাত্রের পদগুলিতে অভিষেক ঘনিষ্ট ব্যক্তিরা বসেছিলেন। এদিন বেশ খানিকটা কঠোর ভাষায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, প্রকাশ্যে মুখ খুললে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে, প্রয়োজন হলে দল থেকে ছেটে ফেলা হবে।

বেশ কয়েক মাস ধরে তৃণমূল দলের মুখপাত্র এবং দলের প্রবীণ নেতাদের মধ্যে বিতর্ক এমন ভাবে দানা বেঁধেছিল যাতে মনে হচ্ছিল বিরোধীদলের কোন নেতা কথা বলছেন। এই পরিস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে আজ বুধবার কালীঘাটের বাড়িতে পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে দলনেত্রীর স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন কোন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলবে না। কালীঘাটের বাড়িতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া সাধারন সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সুব্রত বকশী সহ দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

সূত্রের খবর সেই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে বলেছেন বাইরে কোনরকম বিরূপ মন্তব্য না করে দলের অভ্যন্তরে মন্তব্য করতে হবে নেতাদের। তৃণমূল সূত্রের খবর, সেখানেই মমতা নেতাদের মুখে লাগাম টানার কথা বলেছেন। জানিয়েছেন, প্রকাশ্যে মুখ খুললে সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দরকার হলে ছেঁটে ফেলা হবে! সেই সঙ্গে অভিষেক ও বক্সীকে মমতা নির্দেশ দিয়েছেন, দলের মুখপাত্র কারা হবেন, নতুন করে সেই তালিকা তৈরি করতে।

তৃণমূলের এক নেতার কথায়, ‘‘দিদি বলেছেন, সবাই মুখপাত্র হয়ে উঠছেন! এটা করা যাবে না। যেখানে সেখানে, যাকে-তাকে যা খুশি বলা যাবে না। দল যাকে মুখপাত্র করবে, সে-ই দলের কথা বলবে।’’ শুধু তা-ই নয়। মমতা বুঝিয়ে দিয়েছেন, দলের একটি অংশ যে সামাজিক মাধ্যমে যে ভাবে অন্য অংশের বিরুদ্ধে ‘বিষোদ্গার’ করছে, সেই বিষয়টিও তিনি ভাল ভাবে নিচ্ছেন না। দলের মধ্যে উপদল তৈরির প্রবণতা থেকে যে ভাবে হোয়াট্স অ্যাপ গ্রুপ তৈরি হচ্ছে, তা-ও অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ওই নেতার কথায়, ‘‘নেত্রী বলেছেন, অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরস্পরের বিরুদ্ধে মন্তব্য করছে। নিজেদের মতো করে হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে নিজেদের মতো চলছে। এটা আর করা যাবে না। দলে থাকলে দলের নীতি মেনে চলতে হবে।’’ মমতা বৈঠকে আরও জানিয়েছেন, তৃণমূলে গণতন্ত্র আছে। ফলে যা বলার দলের অভ্যন্তরেই বলতে হবে। সংবাদমাধ্যমে তা বলা যাবে না। দলের এক প্রথম সারির নেতার বক্তব্য, ‘‘দিদি বলেছএন, দলের বাইরে কথা না বলে দলের ভিতরে অনেক জায়গা আছে। সেখানে নিজের কথা বলুন!’’ বস্তুত, মমতা বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছেন, কারও কিছু বলার থাকলে তিনি দলের রাজ্য সভাপতি বক্সী, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বা মমতার দফতরে তা জানাতে পারেন।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ