কলকাতা 

‘গণতন্ত্রের অপমৃত্যু ঘটছে, পরের লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে ফিরে আসবো’ এথিক্স কমিটির সুপারিশের পর মন্তব্য মহুয়ার

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : টাকা ও উপহার নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করার অভিযোগে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ খারিজের সুপারিশ করেছে এথিক্স কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার এই সুপারিশ লোকসভার স্পিকার এর কাছে পাঠিয়েছে এক এথিক্স কমিটি। এরপরেই তৃণমূল কংগ্রেস নিরব থাকলেও অন্যান্য বিরোধীদল প্রকাশ্যেই মুখ খুলেছে। কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধীদল মনে করছে মহুয়া মৈত্র কে সাংসদ পদ খারিজের উদ্যোগ নিয়ে এথিক্স কমিটি গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারকে অমান্য করছে। মহুয়া মৈত্র গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে থেকে সংসদে প্রশ্ন তোলার অধিকার তার রয়েছে বলে বিরোধীদের বক্তব্য। এখন দেখার বিষয়, মহুয়া মৈত্র কি প্রশ্ন করেছেন সেই প্রশ্নের গুরুত্ব দেশ এবং সমাজের ক্ষেত্রে কতটা?

যদিও তৃণমূল দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদ ক সম্পাদক মহুয়া মৈত্রের ইস্যুতে দীর্ঘদিন নিরব থাকার পর আজ ইডির আহবানে সাড়া দিয়ে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরোনোর সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন মহুয়া মৈত্রের লড়াই মহুয়াকেই লড়ে নিতে হবে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্যে এটাই স্পষ্ট হয়েছে মহুয়া মৈত্রের পাশে দল সেভাবে নেই। যদিও এথিক্স কমিটির সুপারিশ সামনে আসার পর মহুয়া মৈত্র সমানে তার বক্তব্য স্পষ্ট করে জানাতে শুরু করেছেন ।

এদিন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্যত হুমকির সুরে বলেছেন, ”লোকসভা থেকে যদি আমাকে বরখাস্ত (Expel) করে দেওয়া হয়, আমি পরের লোকসভাতেই বড় ব্যবধানে জিতে ফিরে আসব।” পাশাপাশি এই সিদ্ধান্তকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ বলে কটাক্ষ করেছেন মহুয়া। এতে তিনি অবাক হননি বলেও জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবারই তৃণমূল সাংসদ (TMC MP) মহুয়া মৈত্রের পদ খারিজের প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়েছে এথিক্স কমিটি (Ethics Committee)। এদিন ভোটাভুটিতে মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজের করার প্রস্তাবের পক্ষে পড়ে ৬টি ভোট, প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন চার বিরোধী সাংসদ। শুক্রবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে এই প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে। ডিসেম্বরের ৪ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। সেই সময়ই তৃণমূল সাংসদকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা। সেখানেই স্থির হতে পারে, বিতর্কিত সাংসদের পদ থাকছে নাকি তা খোয়াচ্ছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার এই খবরে মহুয়া মৈত্রর প্রতিক্রিয়া, ”এটা ক্যাঙ্গারু কোর্টের পূর্ব নির্ধারিত একটি সিদ্ধান্ত। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। তবে জনগণের কাছে কিন্তু এই বার্তা পৌঁছে গেল যে গণতন্ত্রের অপমৃত্যু ঘটছে।” এ ধরনের ‘শাস্তি’ দিয়ে তাঁকে দমানো যাবে না, তাও স্পষ্ট করেছেন মহুয়া। তাহলে এখন ভবিষ্যৎ কী? এই প্রশ্নের জবাবে মহুয়ার জবাব, ”এটা তো সুপারিশ। এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শীতকালীন অধিবেশনে আমার বিরুদ্ধে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, দেখা যাক। আগে তো আমার পদ খারিজ হোক, তার পর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ঠিক করব।”

তবে তিনি যে ফিরে আসবেন, সেই চ্যালেঞ্জও নিয়েছেন যথেষ্ট জোরের সঙ্গে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ