অভিষেককে ১০ অক্টোবরের মধ্যে সব নথি জমা দিতে হবে, ইডির আধিকারিকদের নিরপেক্ষতা বজায় রেখে তদন্ত করতে হবে ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের
বাংলার জনরব ডেস্ক : কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে আবেদন করেছিলেন সেই আবেদনের চূড়ান্ত নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।
হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার রায় দিয়ে জানাল, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র দক্ষ অফিসারকেই যেন এই ধরনের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে যা তথ্য ও নথি চাওয়া হয়েছে, তা ১০ অক্টোবরের মধ্যে তাঁকে জমা দিতে হবে। হাই কোর্টের আশা, সেই তথ্য এবং নথি যাচাই করে নিরপেক্ষ ভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ করবে ইডি। ইডি যে তথ্য দেবে, তার গোপনীয়তা বজায় রাখতে নিশ্চিত করবে সিঙ্গল বেঞ্চ।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তদন্তে ইডি যে তথ্য এবং নথি চেয়েছে, তা উপেক্ষা করা যায় না। তবে আদালত আশা করছে, তথ্য এবং নথির যাচাই করার জন্য দক্ষ অফিসারকেই ইডি দায়িত্ব দেবে। এমন অফিসার তদন্ত করবেন যাঁর আর্থিক লেনদেন (মনি লন্ডারিং) সংক্রান্ত বিষয়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তথ্য এবং নথি না দিলে তার প্রভাব ‘সাংঘাতিক’ হতে পারে। এমনকি, এ নিয়ে জনসাধারণের মনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। আদালত সংবিধান দ্বারা আবদ্ধ। আমরা আশা করব, ইডি সঠিক পথে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে।
ডিভিশন বেঞ্চ বলে, ‘‘অভিষেক এক জন সাংসদ। তিনি তথ্য এবং নথি প্রকাশ করলে তাতে অসুবিধার কিছু নেই। তাঁর আইনজীবীও এক সপ্তাহের মধ্যে সব নথি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। আমরা বলছি, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে ইডিকে সব নথি দিন অভিষেক। ১৯ মাস ধরে এই তদন্ত চলছে। তদন্ত আরও বিলম্বিত হলে কারও জন্য তা সুখকর নয়।’’
আদালত জানিয়েছে, অভিষেক নথি জমা করার পর সব নথি খতিয়ে দেখবে ইডি। তার পরে যদি প্রয়োজন হয়, তবে অভিষেককে তারা ৪৮ ঘণ্টা আগে সমন পাঠাবে। বলার প্রয়োজন নেই যে, ইডি নিরপেক্ষ ভাবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। আইন মেনে তারা উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে। হাই কোর্ট বলে, ‘‘আমরা আশা করছি, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই তদন্ত শেষ হবে। সকলকে সম্মান জানিয়েই বলছি, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে। তাই আশা রাখছি, ইডি ডাকলে তিনি যাবেন। যদিও ইডি তাঁকে ১৯ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে ডাকতে পারবে না।’’

