সংসদের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে বিদ্বেষ ভাষণ দেওয়ার দায়ে রমেশ বিধুরীর সাংসদ পদ খারিজ করার দাবী জানালেন পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী
বাংলার জনরব ডেস্ক : মোদি সরকারের তৈরি করা জনগণের অর্থে নতুন সংসদ ভবনে নতুন ভারত গড়ার যে শপথ নরেন্দ্র মোদী নিয়েছিলেন তা তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলেছেন। নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিনে যেভাবে যে ভাষায় দিল্লির বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধুরি এক মুসলিম সাংসদকে আক্রমণ করেছেন তা এক কথায় ভারতের চিরন্তন ঐতিহ্য ও সংহতির বিরোধী। বিজেপি সাংসদদের এই বিদ্বেষ বক্তব্য নিয়ে এখনো পর্যন্ত লোকসভার স্পিকারের কোন বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনি। এমনকি বিজেপি দলের পক্ষ থেকেও এই সাংসদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়নি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং যেভাবে চাঁদ সওদাগরের মনসা পূজার মত ক্ষমা চাওয়ার নাটক করলেন তা এক কথায় দেশের সংস্কৃতি বিরোধী। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী যিনি বলেছিলেন আমি বিদ্বেষের বাজারে ভালোবাসার দোকান খুলেছি, সেই দোকানকে সঙ্গে নিয়ে ছুটে গেলেন বিএসপি সাংসদ দানিস আলির সঙ্গে দেখা করতে। দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিজেপি সাংসদের এই হেট স্পিচ নিয়ে সমালোচনার ঝড়। মিম নেতা ও সাংসদ আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন সংসদে দাঁড়িয়ে একজন মুসলিম জনপ্রতিনিধিকে যে ভাষায় বিজেপি সাংসদ আক্রমণ করেছেন তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটাই বিজেপির সংস্কৃতি হয়তো একদিন দেখবেন এই রমেশ বিধুরী দিল্লী রাজ্যের বিজেপির সভাপতি হয়েছেন।

এদিকে পশ্চিমবাংলা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সেভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও এই রাজ্যের একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ বিরোধী দলের নেতা পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন এই ধরনের বিদ্বেষ বক্তব্য সংসদের ভেতরে রাখার জন্য অবিলম্বে রমেশ বিধুরীর সাংসদ পদ কেড়ে নেওয়া হোক।
নওশাদ সিদ্দিকী যা বলেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো :
“মহাসমারোহে নতুন সংসদ ভবনে বিশেষ অধিবেশন হল। কিন্তু অধিবেশন চলাকালীন এক বিজেপি সাংসদ যেরকম বেনজির, নোংরা, কদর্য ভাষায় আরেক সাংসদকে গালাগাল করলেন সেটা বোধহয় সংসদের ইতিহাসে এই প্রথম।
আমরা লক্ষ্য করছি বেশ কয়েক বছর যাবত ভারতে ‘ঘৃণার ভাষণ’ (hate speech) বাড়ছে। এই ঘৃণার ভাষণ মূলত মুসলিম, দলিত, আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি করা হয়। লাইভ সম্প্রচারে দেখা গেল, সেটা এখন সংসদ চত্বরেও প্রবেশ করেছে।
চন্দ্রযান ৩ মিশন নিয়ে আলোচনা চলাকালীন দক্ষিণ দিল্লির বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধুরি তাঁর ভাষণে স্পষ্ট করে দিয়েছেন সংখ্যালঘু মুসলিমদের প্রতি সঙ্ঘ পরিবারের কুৎসিত মনোভাব। বিধুরি বিএসপি সাংসদ কুনওয়ার দানিশ আলি সম্পর্কে ‘দালাল’, ‘কাটা’, ‘মোল্লা উগ্রবাদী’, ‘আতঙ্কবাদী’ ইত্যাদি অসংসদীয় ও ঘৃণ্য কথাগুলি অবলীলায় ব্যবহার করলেন। এটাও চোখে পড়ল পাশে বসে বিজেপি’র প্রবীণ নেতা হর্ষ বর্ধন ও রবিশঙ্কর প্রসাদ নির্লজ্জের মতন হাসছেন।
আমি মনে করি রমেশ বিধুরির দ্রুত সাংসদ পদ খারিজ করা হোক এবং তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হোক।
আমি আশ্চর্য হয়ে যাচ্ছি তাঁর কথাগুলি রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার বিরুদ্ধে এখনও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, না সংসদ থেকে, না তার দলের তরফে।
ইতিমধ্যে ঘটনাটি প্রিভিলেজ কমিটিতে পাঠানোর জন্য দানিশ আলি সহ বিরোধী সাংসদরা স্পিকারকে অনুরোধ করেছেন। তবে আমি বিজেপি’র কাছে এটা আশাও করি না যে তারা দলীয়স্তরে রমেশ বিধুরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। একটা নামকাওয়াস্তে কারণ দর্শানোর নোটিস তারা যদিও এই সাংসদকে দিয়েছে। কিন্তু সেটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকা ছাড়া আর কিছুই নয়। বিজেপিও দলীয়ভাবে এই সাংসদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক এবং সংসদে তার পদ খারিজের প্রস্তাবে সহমত জানাক।
সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণার চাষ করে, বিভেদের জাল বুনেই বিজেপি শাসন ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। কিন্তু আমরা এই ঘৃণার বাতাবরণকে ছিন্নভিন্ন করতে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক আদর্শকে উর্ধ্বে তুলে ধরে বিরামহীন সংগ্রাম করে যাবো। ”

