অন্যান্য জেলা 

Dattapukur Blast : কেন বারবার বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ? সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে রাজ্য প্রশাসন ?

শেয়ার করুন

সেখ ইবাদুল ইসলাম : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে এত বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ হচ্ছে যা এক কথায় নজীরবিহীন বলা যেতে পারে । অন্যান্য রাজ্যে বাজি কারখানায় এত বিস্ফোরণ হয় বলে আমাদের মনে হয় না অন্তত খবরের কাগজে তেমন কোনো  খবর দেখা যায়নি । কিন্তু দুঃখের হলেও সত্যি আমাদের রাজ্যে গড়ে প্রতি মাসেই কোনো কোনো বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ হয়ে থাকে । আর ফলে বেশ কয়েক জনের মৃত্যুও হয় । অথচ রাজ্যে বাজি কারখানা তৈরির আইন আছে, তা যদি সঠিকভাবে কার্যকর করা যেতে তাহলে সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু মিছিল বন্ধ করা সম্ভব হতো । এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন এক পুলিশ কর্তা বাংলার জনরবকে বলেন, বাজি কারখানা করতে গেলে কতকগুলি নিয়ম বিধি মানতেই হয় । কিন্ত সঠিকভাবে মানা হয় না বলেই জানা যাচ্ছে । যেমন বাজি কারখানাগুলির বেশিরভাগই গ্রামীণ এলাকায় হয়ে থাকে, তাই বাজি কারখানাগুলি পরিদর্শনের জন্য একটি কমিটি থাকে । এই কমিটিতে স্থানীয় বিডিও যেমন থাকেন একইভাবে থাকে থানার ওসি । তাই কোথাও অনিয়ম হলে দায় কোনোভাবেই বিডিও এবং থানার এড়াতে পারেন না । তিনি আরও বলেন, আসলে রাজনৈতিক কারণে অনেক সময় প্রশাসনিক কর্তারাও সব জেনেও চুপ করে থাকেন । আর এর ফলে ক্ষতি হয় সাধারণ নাগরিকদের ।

আজ রবিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ যে বিস্ফোরণ উত্তর ২৪ পরগণার দত্তপুকুরের মোচপোলে হয়েছে তার ফলে ওই বাজি কারখানায় কর্মীদের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে । যে বাড়িতে বাজি তৈরি হত, সেই বাড়িটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত। ভেঙে পড়েছে ছাদ। বাড়ির কংক্রিটের পিলারও ভেঙে পড়েছে। তার নীচে অনেকেই আটকে পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Advertisement

স্থানীয়দের একাংশের দাবি, মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে তিন জনের। আশপাশেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে ছিন্নভিন্ন দেহাংশ। কোথাও গাছের ডালে, আবার কোথাও টালির চাল থেকে মৃত ব্যক্তিদের দেহাংশ ঝুলতে দেখা গিয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, বেশ কয়েক জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ১০ পেরিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর।

বারাসত পুলিশ জেলার সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে রয়েছেন। পুলিশের তরফে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি।মোচপোলের বাসিন্দা সামসুল আলি বেআইনি বাজির কারবার চালাতেন বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের যোগ রয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। অভিযোগ, রাজনীতির সূত্রেই তিনি দিনের পর দিন ধরে বেআইনি কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। স্থানীয়রা দাবি করছেন, বার বার বাজি কারখানার বিরোধিতা করে প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন গা করেনি। তাঁদের দাবি, পাত্তা দেননি অন্য তৃণমূল নেতারাও। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, প্রশাসন এবং তৃণমূলের যোগসাজশেই রমরমিয়ে চলছিল বেআইনি বাজির কারবার।

গত ১৬ মে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার খাদিকুল গ্রামের বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটেছিল। মৃত্যু হয়েছিল অন্তত ৯ জনের। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পাঁচ দিনের মাথায়, ২১ মে রবিবার কলকাতার অদূরে বজবজের একটি বাড়িতে বাজি বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। পর পর দু’জায়গায় বেআইনি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছিল প্রশাসন। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল, সেই ঘটনার সাড়ে তিন মাস কাটতে না কাটতেই আবারও বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল বাংলা। এ বারও কাঠগড়ায় সেই বেআইনি বাজি কারখানা। এর ফলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে।

এগরা ও বজবজে বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকেই বেআইনি বাজি উদ্ধারে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়। সে সময় উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরেও পুলিশি অভিযানে মেলে অন্তত ২০০ কুইন্টাল বাজি। অভিযোগ, ওই বিপুল পরিমাণ বেআইনি ভাবে বাড়িতে মজুত করে রাখা হয়েছিল। কিন্ত এত মানুষের মৃত্যুর পর যদি রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসন কড়া ব্যবস্থা নিতো তাহলে হয়তো এই ধরনের বিস্ফোরণ এড়ানো যেত । আর এই বিস্ফোরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল বিজেপি যে আরও তীব্র আন্দোলনে নামবে কিংবা এনআইএকে দিয়ে তদন্ত করার দাবি জানাবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই । আর এরফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি জনমানষে বিরুপ প্রতিক্রিয়া পরার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ