‘‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার উদ্যোগ আমাদের সামজিক কাঠামোর সামনে একটি বিপদ’’ আইন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানালেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন
বাংলার জনরব ডেস্ক : অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে এবার বেশ খানিকটা চাপের মুখে পড়ল কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। দক্ষিণ ভারত থেকে এই চাপটি এসেছে, দক্ষিণ ভারতের অবিসংবাদী নেতা তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন কেন্দ্রীয় আইন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে অবিভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।কমিশনকে পাঠানো চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার উদ্যোগ আমাদের সামজিক কাঠামোর সামনে একটি বিপদ।’’
ডিএমকের সঙ্গী কংগ্রেসের তরফে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া না দেখে তারা এ বিষয়ে কোনও মতামত জানাবে না। এই পরিস্থিতিতে স্ট্যালিনের পদক্ষেপ ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিল এবং ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে সংখ্যালঘু এবং জনজাতি জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার প্রয়োজনিয়তার কথাও কমিশনকে জানিয়েছেন স্ট্যালিন।

গত ১৪ জুন ২২তম আইন কমিশনের তরফে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর বিষয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এবং আমজনতার মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে ১০ লক্ষেরও বেশি ব্যক্তি এবং সংগঠনের প্রতিক্রিয়া জমা পড়েছে বলে আইন কমিশন সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বলবীর সিংহ চৌহানের নেতৃত্বাধীন ২১-তম আইন কমিশনের মত ছিল, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকারের মতো পারিবারিক বিষয়ে হিন্দু, মুসলমান, শিখ, খ্রিস্টান, পার্সি, জৈন সকলের জন্য একই আইন চালু করার প্রয়োজন নেই।
২১ তম কমিশন অভিন্ন দিওয়ানি বিধির পক্ষে মত না প্রকাশ করার জন্যই এই কমিশনের প্রস্তাবকে প্রকাশ্যে না এনে মোদি সরকার আবার ২২ তম কমিশন গঠন করল। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন ২১তম কমিশন তার প্রস্তাবে যা বলেছে তার মধ্যে অনেকটাই বাস্তবতা রয়েছে। ২১ তম কমিশন মনে করে দেশের সংহতি ঐতিহ্য ও বিবিভিদের মাঝে মিলনের জন্যই অভিন্ন দেওয়ানী বিধি কার্যকর করা উচিত নয়।

