আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থী অরুণিমা পালের হাতে ‘হিউম্যান বাইট’ রিপোর্ট সরকারি হাসপাতালের, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে চলেছেন অরুণিমা!
বাংলার জনরব ডেস্ক : আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থী অরুণিমা পালের হাতে ‘হিউম্যান বাইট’ বা মানুষের কামড়ের আঘাত প্রমাণিত হয়েছে। সাগর দত্ত হাসপাতালের চিকিৎসক তাঁকে এই মর্মে শংসাপত্র দিয়েছেন যে, মানুষের কামড়ের ফলেই ওই কর্মপ্রার্থীর হাতে আঘাত লেগেছে। এই রিপোর্ট পাওয়ার পর, যে-পুলিশকর্মী তাঁকে কামড়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন অরুণিমা।
২০১৪ সালের টেট পাশ করা অরুণিমা অন্যদের সঙ্গে কলকাতার রাজপথে বিক্ষোভে নেমেছিলেন বুধবার। ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন অন্যদের সঙ্গে তাঁকেও পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়। অভিযোগ, তখন এক মহিলা পুলিশকর্মী অরুণিমাকে কামড়ে দেন। ঘটনার দু’দিন পরে শুক্রবার সরকারি হাসপাতাল অরুণিমার হাতে মানুষের কামড়ের বিষয়টি নিশ্চিত করল।
অরুণিমা বলেন, ‘‘আমি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নই। জামিনের শর্ত মেনে এ দিন কলকাতায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিতে হয়েছিল।’’ পুলিশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানাবেন কি? ‘‘আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করব,’’ বলেন অরুণিমা।
তবে লালবাজার সূত্রে খবর, দক্ষিণ ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার (২) বুদ্ধদেব মুখোপাধ্যায়কে ঘটনার ‘এনকোয়ারি’ বা অনুসন্ধান করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত শেষ করে ডিসি (দক্ষিণ)-কে রিপোর্ট দেবেন। অরুণিমা বলেন, ‘‘এই বিভাগীয় তদন্ত যেন নিরপেক্ষ হয়।’’ পুলিশ জানিয়েছে, ডেপুটি কমিশনার অভিযুক্ত মহিলা পুলিশকর্মীর সঙ্গে কথা বলবেন। কথা বলবেন অরুণিমার সঙ্গেও। সে-দিন ঠিক কী হয়েছিল, তাঁদের কাছে তা জানতে চাইবেন। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে সে-দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য পুলিশকর্মীদের বক্তব্য রেকর্ড করবেন ওই অফিসার। অভিযুক্ত ওই মহিলা পুলিশকর্মী এখন হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

