কলকাতা 

রাজ্য বিজেপির কাজকর্ম নিয়ে এবং নাম না করে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক প্রাক্তন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু, রাজনৈতিক গন্তব্য কী তৃণমূলে?

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : বিস্ফোরক সায়ন্তন বসু বিজেপির একদা তরুণ তুর্কি নেতা এবং আরএসএস-এর অন্যতম প্রচারক সায়ন্তন বসু অভিযোগ করেছেন বিজেপি দল চালাচ্ছে এখন তৃণমূল থেকে আশা কতগুলো নেতা। দলের আদি কর্মীরা, ব্রাত্য হয়ে গেছেন। সিবিআই ও ইডির ভয় দেখিয়ে তৃণমূল দল ভাঙ্গার চেষ্টা চলছে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা হচ্ছে বলে সায়ন্তন বসু অভিযোগ এক চিঠিতে দলের সর্বভারতীয় সভাপতিকে এই অভিযোগ জানিয়েছেন আজ শুক্রবার সেই চিঠির কপি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

দীপাবলি উপলক্ষে দলের সর্বভারতীয় সভাপতিকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু অভিযোগ করেছেন, বিরোধী দলনেতা-সহ দলের প্রবীণ সাংসদরাও এমন ভাবে শাসকশিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করছেন, যাতে মনে হচ্ছে, তৃণমূলেরই দুই শিবিরের লড়াই চলছে। এর পরেই বলা হয়েছে, বাংলায় দল মূলনীতি নিয়ে লড়াই করছে না। মানুষের কাছে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, সিবিআই, ইডি-র সমনের ভয়ে আরও অনেকে বিজেপিতে যোগ দেবেন। রাজ্য বিজেপির উপরে মানুষের ভরসা কমছে। এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে সায়ন্তন বসুর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,‘‘যাঁদের থেকে চিঠি হাতে পেয়েছেন তাঁদের জিজ্ঞাসা করুন। আমি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।’’ তবে রাজ্য বিজেপি সায়ন্তনের চিঠিকে গুরুত্ব দিতে রাজি নয়।

বিধানসভায় বিজেপি দ্বিতীয় শক্তি হলেও রাজ্যে বিরোধীপক্ষ হিসাবে যে সিপিএমের ‘উত্থান’ হচ্ছে, তারও উল্লেখ রয়েছে সায়ন্তন বসুর চিঠিতে। বলা হয়েছে, সম্প্রতি কলকাতায় সিপিএমের যুবশাখার কর্মসূচিতে কোনও ট্রেন, বাস ভাড়া না করেও ৩৫ হাজারের জমায়েত করা হয়েছিল। বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচন ত্রিমুখী লড়াইয়ে পরিণত হবে। এ ছাড়াও নতুন জেলা থেকে ব্লক কমিটি গঠন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, বিজেপির আদি কর্মীরা গুরুত্ব হারিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, দিলীপ ঘোষ রাজ্য সভাপতি থাকার সময় রাজ্যের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সায়ন্তন। সুকান্ত মজুমদার দায়িত্ব পাওয়ার পরে বিজেপির কোনও দায়িত্বেই নেই তিনি। সেই সময়ে ‘বিক্ষুব্ধ’ হিসাবে সায়ন্তন জয়প্রকাশ মজুমদারদের সঙ্গে জোটও বেঁধেছিলেন। পরে জয়প্রকাশ তৃণমূলে গেলেও সায়ন্তন দলবদল করেননি। যদিও রাজ্য বিজেপির সঙ্গে তাঁর দূরত্ব দিন দিন বেড়ে গিয়েছে।

চিঠিতে যেহেতু দীপাবলির শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে, তাই সেটা সাম্প্রতিক সময়ের বলেই মনে করা হচ্ছে। সেখানে ১৯৮০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত রাজ্যে বিজেপির অসংখ্য কর্মীর অবদানের কথা দিয়ে শুরু করা হলেও মূলত রয়েছে বর্তমান রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি বিষোদ্গার। ২০১৯ সালের পরে এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আগে বিজেপিতে যোগ-দেওয়া অন্য দলের নেতারা বেশ কিছু নিশ্চিত আসন থেকে লড়াই করেও হেরেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে বিজেপির একটা শিবির দাবি করছে জয়প্রকাশ মজুমদারের মতই সায়ন্তন বসু ও তৃণমূলের যোগ দিতে পারেন। সেই কারণে তিনি এতদিন চুপচাপ থাকার পর হঠাৎ দলের রাজ্য নেতাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তবে আরএসএসের এই প্রচারক কি সত্যিই তৃণমূলে যোগ দেবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে? তবে রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই তাই সায়ন্তন বসু তৃণমূলের যোগ দিলে বিস্ময়ের কিছু থাকবে না।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ